৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

​পীরগঞ্জে ৬ বছর আগের বিচ্ছিন্ন বিদুৎ সংযোগে ভৌতিক বিলের অভিযোগ

আপলোড সময় : ১৫-০৬-২০২৬
​পীরগঞ্জে ৬ বছর আগের বিচ্ছিন্ন বিদুৎ সংযোগে ভৌতিক বিলের অভিযোগ পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩

মোঃ শিহাবুর রহমান সরকার, পীরগঞ্জ, রংপুর: রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পীরগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে চতরা সাব-স্টেশন ও অভিযোগ কেন্দ্রে মালামাল চুরি,টাকার বিনিময়ে সেবা প্রদান, অনিয়ম,দূর্নীতি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা সংযোগে নতুন করে ‘ভৌতিক’ বিল প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ সকালে চতরা অভিযোগ কেন্দ্র থেকে সরকারি বৈদ্যুতিক মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অফিসের লাইনম্যান (গ্রেড-১) মোঃ শফিকুল ইসলাম টাইগার ও বাড়িওয়ালা আতিয়ার রহমানকে শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় জনতা চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ জোনাল অফিস এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অপরদিকে, নৈশপ্রহরী আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপকর্মে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ সংযোগ প্রদানের অভিযোগে ২০২৫ ইং সালের আগস্টে তাকে মিঠাপুকুর গ্রিডে বদলি করা হলেও মাত্র আট মাসের ব্যবধানে পুনরায় তার চতরা সাব-স্টেশনে ফিরে আসা নিয়ে, এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। সেই সাথে  দাপটের সাথে তার পূর্বের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে,তারই ধারাবাহিকতায়  শিবটারী মৌজার হোপনা কিসকুর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণঃএবং পুনরায় সংযোগ প্রদানে নৈশ্য প্রহরী,আজাদুল ইসলাম, লাইন ম্যান,( গ্রেড১) শফিকুর ইসলাম টাইগার, লাইন টেকনিশিয়ান, হারুন অর রশিদ, ওয়ারিং ইন্সপেক্টর নাসিরুদ্দিন গং সহ বড় স্যারদের দিতে হবে কাউকে না জানানোর শর্তে হোপনা কিসকুর কাছ থেকে কৌশল  ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। 

অন্যদিকে,দীর্ঘ ৬ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি আবাসিক সংযোগে নতুন করে বিল প্রদানের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোঃ জাহিবুল ইসলাম,  (পিতাঃ আজিজার রহমান, গ্রাম-জমিরবাড়ি, কাবিলপুর ইউনিয়ন) জানান, ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট একটি সংযোগ থেকে অন্য বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকে তাঁর বাড়িতে কোনো মিটার বা বিদ্যুৎ ছিল না। অথচ সম্প্রতি হঠাৎ করেই তাঁর নামে ৩ হাজার ১৭৬ টাকার একটি বিল পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী জাহিবুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “ছয় বছর ধরে আমার কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, মিটারও নেই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আমাকে এই বিল ধরিয়ে দেওয়া হলো? এটি চরম অনিয়ম।

এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিয়ম অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন সংযোগের ক্ষেত্রে নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো নিয়মই মানছে না চতরা সাব-স্টেশন কর্তৃপক্ষ।শুধু তাই নয় টাকা ছাড়া কোন সেবাই পাচ্ছে না সাধারণ গ্রাহক।

এ বিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, “বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে"।।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ