বাজিতপুরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
এ জেড আল মুজাহিদ, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলা হলরুমে বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের সহযোগিতায় এই কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জালাল উদ্দিন। এছাড়া কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন আশা ভাগলপুর ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ, ব্র্যাক বাজিতপুরের এরিয়া অফিসার জুয়েল হাসান, ডিএসকে বাজিতপুর শাখার ম্যানেজার হামিদুর রশিদ, পিবিকে বাজিতপুরের কোহিনুর ইসলাম, উপজেলা গ্রাম আদালত ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ জেলা গ্রাম আদালতের ম্যানেজার হাফিজা আক্তার।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা গ্রাম আদালতের ম্যানেজার হাফিজা আক্তার। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন যে, গ্রাম আদালত হলো তৃণমূল পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ী বিচার প্রাপ্তির একটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গ্রাম আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেলে ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, যা উচ্চতর আদালতসমূহের মামলার চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল উদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালত জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে এটি বড় ভূমিকা পালন করছে। এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে মানুষ অপ্রয়োজনীয় মামলা-মোকদ্দমা এড়িয়ে দ্রুত বিচার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে এবং এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নে নিজ নিজ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, এবারের কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে, চলো যাই গ্রাম আদালতে।”
কমেন্ট বক্স