৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, নৌকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মিঠামইনে যাত্রীবাহী নৌকায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি

আপলোড সময় : ১৬-০৬-২০২৬
মিঠামইনে যাত্রীবাহী নৌকায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন

এ জেড আল মুজাহিদ, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে যাত্রীবাহী নৌকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে আন্তজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং রামদা ও বল্লমসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান। জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভার, কামরাঙ্গীরচর এবং মিঠামইন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—মিঠামইন উপজেলার কাটখাল কাজীপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (৪৪), বজকপুর গ্রামের মো. হারেছ মিয়ার ছেলে ইছানুল হক ওরফে এহসানুল হক ফকির (২৬) এবং বড়কান্দা মধুপুর গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ৭ জুন মিঠামইন নৌঘাট থেকে ২০-২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা করিমগঞ্জের বালিখলা নৌঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে হাসানপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে আবহাওয়া খারাপ থাকায় নৌকাটি প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় রওনা দেওয়ার পরপরই ১০-১২ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে এসে যাত্রীবাহী নৌকাটির গতি রোধ করে। এরপর ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে সবার মোবাইল ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। এ ঘটনায় গত ১৫ জুন নৌকার মাঝি জামাল মিয়া বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর মিঠামইন থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ১৫ জুন দুপুরে ঢাকার সাভার থেকে ইছানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে মো. জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ওই রাতেই মিঠামইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের আরেক সদস্য রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অভিযানকালে ডাকাতদের গোপন আস্তানা থেকে লুণ্ঠিত ৫টি মোবাইল ফোন (যার মধ্যে ১টি বাটন ফোন), ডাকাতিতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা, রামদা, লোহার রড এবং ছোট-বড় ২০টি বল্লম উদ্ধার করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল হক।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ