৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​মৌলভীবাজার সীমান্তে এক শিশুসহ ৭ নারীকে পুশ-ইন, বিজিবির নজরদারি জোরদার

আপলোড সময় : ২৫-০৬-২০২৬
​মৌলভীবাজার সীমান্তে এক শিশুসহ ৭ নারীকে পুশ-ইন, বিজিবির নজরদারি জোরদার ​মৌলভীবাজার সীমান্তে এক শিশুসহ ৭ নারীকে পুশ-ইন

মো. রুহুল আলম রনি, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এক শিশুসহ সাত নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের দেবলছড়া সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সীমান্তসংলগ্ন বকশিটিলা এলাকা দিয়ে এক শিশুসহ সাত নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেন। 

আটক নারীরা স্থানীয়দের জানান, তারা ভারতের একটি কারাগারে প্রায় ২৫ দিন ধরে আটক ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চোখ বেঁধে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে এবং পরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেয়। 

স্থানীয় যুবক জহির আহমেদ জানান, তিনিই প্রথম ওই নারীদের আটক করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং কমলগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়। পুলিশ এসে তাদের সঙ্গে কথা বললেও পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোর্শেদ রাজু বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পরে অবগত হয়েছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, পুশ-ইনের শিকার নারীরা বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের বাড়ি ঢাকার সাভার এলাকায়। 

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ভোরে আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলীয়া বকশিটিলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক শিশুসহ সাত নারী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ খোঁজখবর নেয়। তবে এর আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেয় এবং পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, পুশ-ইনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে সেখানে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয়রা আটক নারীদের ইতোমধ্যে ছেড়ে দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করা অথবা তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা। এতে পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হতো।” 

বিজিবি কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশ-ইনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ