এলজিইডিতে এখনো প্রভাবশালী আওয়ামীপন্থি সিন্ডিকেট!
গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভ বিএনপিপন্থি প্রকৌশলীদের
সংগৃহীত ছবি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের সর্ববৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সংস্থাটির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। তবে এলজিইডির অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত দেড় দশকে এলজিইডির অধিকাংশ নিয়োগ ও পদায়ন দলীয় বিবেচনায় সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে গঠিত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, এলজিইডি শাখার ১০১ সদস্যের একটি কমিটি এখনও প্রভাব বিস্তার করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থাশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও এলজিইডির শীর্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনও সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা বহাল রয়েছেন। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদেও তাদের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এলজিইডির ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও বিএনপিপন্থি প্রকৌশল সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর নেতারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরলেও দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। বরং সংস্থাটিতে বিএনপিপন্থি প্রকৌশলীরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে তারা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গোয়েন্দা যাচাই ছাড়াই পদোন্নতি পাচ্ছেন। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন পদে পদোন্নতি এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক ছিল।
আরও অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে যে ৫০১ জন প্রকৌশলী বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। ফলে এলজিইডির প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত বিএনপিপন্থি প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করে পিডি নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এলজিইডির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কমেন্ট বক্স