ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬-এ বিজিআইয়ের স্টল পরিদর্শন করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার, ২৬ জুন।
দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় নিজস্ব সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) স্থাপনে বিপুল বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বক্ষণিক সাইবার সুরক্ষা দেওয়ার সেবা নিয়ে এসেছে বিজি ইন্টারঅ্যাকটিভ লিমিটেড (বিজিআই)।
ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬-এ অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২৪ ঘণ্টার সাইবার পর্যবেক্ষণভিত্তিক ‘সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার অ্যাজ এ সার্ভিস (এসওসি অ্যাজ এ সার্ভিস)’সহ বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা সেবা ও দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ তুলে ধরে।
সামিটে স্পনসর হিসেবে অংশ নেওয়া বিজিআই স্টল নম্বর-৮ এ তাদের সাইবার কমান্ড সেন্টার (সিসিসি) এবং ম্যানেজড সিকিউরিটি সেবাগুলো প্রদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব সেবার মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব এসওসি স্থাপন ও পরিচালনার উচ্চ ব্যয় ছাড়াই আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা সুবিধা পাবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সামিটে প্রতিষ্ঠানটির স্টল পরিদর্শন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে বিজি ইন্টারঅ্যাকটিভের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিজি ইন্টারঅ্যাকটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিলা রহমান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এসওসি স্থাপন করতে সার্ভার, সফটওয়্যার, নিরাপদ অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ক্লাউড সুবিধা এবং দক্ষ জনবলসহ বিপুল মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, গ্রাহককে শুধু মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের সিস্টেম বিশ্লেষণ করব, হুমকি শনাক্ত করব, পুরোনো সফটওয়্যার বা ফিশিং আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করব এবং নিয়মিত রিপোর্ট দেব।
নাবিলা রহমান জানান, তাদের নিজস্ব সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তার ভাষায়, আমাদের অ্যানালিস্টরা ২৪ ঘণ্টা হুমকি পর্যবেক্ষণ করেন। কোথা থেকে আক্রমণ আসছে, কোথায় ঝুঁকি রয়েছে, ফিশিং ই-মেইল বা হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হচ্ছে কিনা, এসব শনাক্ত করে আমরা গ্রাহকদের উপযুক্ত সমাধান দিই।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এসওসি অ্যাজ এ সার্ভিস’র আওতায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক হুমকি পর্যবেক্ষণ, তাৎক্ষণিক হুমকি শনাক্তকরণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স এবং কমপ্লায়েন্স রিপোর্টিং সুবিধা পান।
এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব এসওসি স্থাপন করতে চায়, তাদের জন্য স্থাপনা নকশা, প্রযুক্তি নির্বাচন, বাস্তবায়ন, অপারেশনাল প্লেবুক তৈরি, ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক উন্নয়নসহ পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের সাইবার নিরাপত্তা সেবার মধ্যে রয়েছে ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং, ডিজিটাল ফরেনসিকস, সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং আইএসও ও আইটি অডিটিং সেবা।
এছাড়া আইএসওসহ আন্তর্জাতিক মানের সনদ অর্জন ও তা ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা হয়। এ সেবার আওতায় গভর্ন্যান্স মূল্যায়ন, ঝুঁকি ও কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনা, অ্যাপ্লিকেশন নিরাপত্তা অডিট, এসওসি ম্যাচিউরিটি মূল্যায়ন, ক্লাউড নিরাপত্তা অডিট এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
নাবিলা রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পিওএস, কোর ব্যাংকিং এবং ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সলিউশনের ব্যবসা করলেও এক বছরেরও কম সময় আগে প্রতিষ্ঠানটি সাইবার নিরাপত্তা খাতে কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি জানান, বিজিআই ফর্টিনেট ও স্প্লাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। এর মাধ্যমে বিশ্বমানের নিরাপত্তা প্রযুক্তি স্থানীয় সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বিজি ইন্টারঅ্যাকটিভের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান আজাদুর রহমান সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক, বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানির তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার সাইবার পর্যবেক্ষণ সেবা দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্প্লাঙ্কের পাঁচটি পার্টনারের মধ্যে আমরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের এসওসি পরিচালনা করি। পাশাপাশি আমাদের ফর্টিনেট সলিউশনও রয়েছে এবং আমরা দুটি প্রযুক্তিই বাস্তব পরিবেশে পরিচালনা করি।
বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা খাতের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে এ খাতে কাজ শুরু করার সময় অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করত, শুধু ফায়ারওয়াল থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর সবাই বুঝেছে, শুধু ফায়ারওয়াল যথেষ্ট নয়। এখন প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠানেই আলাদা সাইবার নিরাপত্তা সেল বা টিম রয়েছে।
দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি আইটি গ্র্যাজুয়েটদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দিচ্ছে বলে জানান আজাদুর রহমান।
তার ভাষায়, চাকরির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণে কাজ করছে বিজিআই।
তিনি বলেন, যারা ভালো করবে, তারা আমাদের এখানেই কাজের সুযোগ পাবে। পরে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা দেশে বা বিদেশে আরও ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবে।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে এবারের সামিটে ‘সাইবার হান্ট’ নামে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সমাধান করে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬-এ নীতিনির্ধারক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সামিটে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল স্থিতিস্থাপকতা এবং দক্ষ জনবল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।