ডালিয়ায় পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে
ডালিয়ায় পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী : ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ী ঢলে নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তার পানি বিপদসিমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপদসিমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ বিকাল ৩টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিন্মঞ্চলসহ ব্যারাজের ভাটি অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এদিকে পাউবো বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪ টি শ্লুইজ গেট (জল কপাট) খুলে দিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার. বিকাল ৩টায় ৫২ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার ও সন্ধ্যা ৬টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসিমার ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার ও রাত ৯টায় পানি বেড়ে ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসিমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম জানান, উজানের ঢলে হঠাৎ ডালিয়া পয়েন্টে পানি উঠানামা করায় বিকাল ৩টায় বিপদসিমার ৭ সেন্টিমিটার ও রাত ৯টায় তা বেড়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও গত ২৩ জুন বিকাল ৩টায় বিপদসিমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। ফের সাত দিনের মাথায় আজকে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, জেলার ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় চর গ্রামের বাড়ী ঘরে পানী প্রবেশ করায় প্রায় ৫-৭ হাজার পরিবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানান, জনপ্রতিনিধিরা।
এছাড়াও ব্যারাজের ভাটি অঞ্চলে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেস্টিত চর ও চরের গ্রাম ও নিন্মঞ্চল তালিয়ে গিয়েছে। এতে মানুষজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাড়ী ঘরে হাঁটু পরিমান পানি প্রবেশ করেছে। সন্ধ্যার মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে বানভাসিরা উঁচু এলকায় অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে, পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, এই ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় চরগ্রাম ঝাড়সিংশ্বরে বন্যার পানী প্রবেশ করায় সেখানকার শতশত পরিবার দূর্ভোগে পড়েছে। এদিকে, জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, গোপালঝাড় ও আলসিয়া পাড়ার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গোবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে তারা উঁচু স্থানে সরে যাচ্ছে।
ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) তহিদুল ইসলাম বলেন, উজানের ভারী বর্ষন, পাহাড়ী ঢলের ফলে তিস্তায় পানি উঠানামা করে থাকে। ইতোমধ্যেই নি¤œাঞ্চলসহ চরগ্রাম গুলো তলিয়ে গেছে। মধ্যরাত পর্যন্ত পানি কমানোর সম্ভবনা রয়েছে। আজকে ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার ও রাত ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ব্যারাজ পয়েন্টে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সন্ধ্যায় হঠাৎই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসিমার ৭ ও রাতে ১০ সেন্টিমিটার ওপরদিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও, আগামী তিনদিন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে পানি সাময়িক কমলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্লাবিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এদিকে, বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪ টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পাউবো।
কমেন্ট বক্স