তপ্ত চেয়ারে বসেই নগর সংস্কারের যুদ্ধ, ‘সবখানেই অনিয়মের ছাপ’ : মসিক প্রশাসক রোকন
মসিক প্রশাসক রোকন
কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ সদর: একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা, ড্রেনের ওপর স্থাপনা, ফুটপাত দখল, পরিকল্পনাহীন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ-এমন নানা সমস্যায় জর্জরিত ময়মনসিংহ মহানগরী। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন।
সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “প্রশাসক হয়ে বুঝতে পারছি, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের চেয়ারটি সত্যিই একটি তপ্ত চেয়ার। প্রতিদিন মাঠে গিয়ে যে বাস্তবতা দেখছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” প্রশাসক রোকন বলেন, নগরীর অনেক এলাকায় ড্রেনের ওপর এবং ফুটপাত দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও রাস্তা উঁচু, কোথাও নিচু। আবার সেই বৈষম্য সহজে চোখেও পড়ে না। ফলে চলাচলের সময় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ এলাকায় বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে পরিকল্পনাহীনভাবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও তদারকি ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে সড়ক, ড্রেন ও ভবন নির্মাণের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। এরই পরিণতিতে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, “অনেক জায়গায় বাসাবাড়ির গেট, রাস্তা ও ড্রেন একই সমতলে চলে এসেছে। ফলে ড্রেনের বর্জ্য পানি রাস্তায় উঠে আসে এবং পরে সেই পানি মানুষের ঘরে প্রবেশ করে। পরিকল্পনাহীন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং বিল্ডিং কোড অমান্য করে ভবন নির্মাণই এ অবস্থার অন্যতম কারণ।” তিনি আরও বলেন, “কোনটা আগে ধরব আর কোনটা পরে করব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি সমস্যার সমাধানে হাত দিলেই অনেক সময় কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হন। কিন্তু নগরবাসীর স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে।” প্রশাসকের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব এবং নাগরিক অসচেতনতার কারণে নগরীর বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ময়মনসিংহকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।” সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ময়মনসিংহ মহানগরীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, বিল্ডিং কোডের কঠোর বাস্তবায়ন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি। অন্যথায় জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হবে। নগরবাসীর একটি অংশ মনে করেন, বর্তমান প্রশাসক মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে কাজ করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কমেন্ট বক্স