০৪ অক্টোবর ২০২৬ , ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

এলজিইডির বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ নেতাদের নিয়োগে তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬
এলজিইডির বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ নেতাদের নিয়োগে তৎপরতা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত চারটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় স্থানীয় সরকার বিভাগে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারের জন্য অতি গোপনে এলজিইডির প্রভাবশালী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের চার নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অধিকাংশই অবগত ছিলেন না।

এমনকি পিডি নিয়োগের জন্য প্রেরিত প্রস্তাব-সংক্রান্ত নথিও এলজিইডিতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও চাঁদপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটির ৪৮ নম্বর সদস্য মো. শাহজাহান আলীর নাম। তিনি বিগত আওয়ামী পনের বছর দাপটের সাথে এলজিইডিতে রাজত্ব করেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এলজিইডির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী ছিলেন দীর্ঘদিন। অতপরঃ গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর জেলার ও রংপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অনেকদিন। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে তার নিবিড় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এনএসআই নিশ্চিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। বর্তমানে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে এলজিইডি সদর দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।

হাওর অঞ্চলের উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) পিডি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটির ৪৯ নম্বর সদস্য এবং কুয়েট ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. ফেরদৌস আহমেদের নাম। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনি সিলেট জেলার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ছাড়াও সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আরও দুইটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও এনএসআই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তার রুমেই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতারা প্রতিদিন আড্ডা দিতেন বলে জানা যায়।এ কারণেই তাকেও নির্বাহী প্রকৌশলী পদে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অপরদিকে, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের পিডি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেকের নাম। তিনি সাবেক সাংসদ ও সাবেক হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ ডানহাত হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেকের প্রভাবের কারণেই তিনি টানা প্রায় ১২ বছর জামালপুর জেলায় সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতপর দূর্নীতিবাজ এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলামের আশির্বাদে কুমিল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ই আগস্টের পরে তাকে কুমিল্লা থেকে সরালেও সাবেক এলজিআরডি উপদেষ্টাকে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে পুনরায় কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারে দায়িত্বে আছেন।

এদিকে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আমিরুল ইসলামের নাম। তিনিও  বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর পিডি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। গোপনীয়তার সঙ্গে প্রস্তাব পাঠানো ও পলাতক নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতারা প্রায়ই গোপন মিটিং ডেকে বিভিন্ন সরকারবিরোধী কার্যকলাপে টাকা প্রদান করছেন। এদের এখন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালে সরকারেরই ক্ষতি হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ