০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সৈয়দপুরে রেলের শত শত একর জমি ও কোয়ার্টার বেদখলে

আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬
সৈয়দপুরে রেলের শত শত একর জমি ও কোয়ার্টার বেদখলে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি ও আবাসন অবৈধ দখল

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: নীলফামারী সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি ও আবাসন অবৈধ দখল, বহুতল ভবন নির্মাণসহ বেচাকেনার ঘটনা ঘটছে। আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানার জমির মতো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কেনাবেচাও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮০০ একর জমির মধ্যে ১৮৭০ সালে প্রায় ১১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা।এরমধ্যে রয়েছে রেলের বিভিন্ন স্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, কৃষিজমি, জলাশয় এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য সংরক্ষিত ভূমি।

অব্যবহৃত সম্পদের প্রায় ৫৫ একর কৃষিজমি, ২১ দশমিক ৩৮ একর জলাশয়, ১ একর বাণিজ্যিক খাত এবং ২৫ দশমিক ২৫ একর জমি পৌরসভার কাছে বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে ধীরে ধীরে প্রায় ৪২৭ একর রেলভূমি বেদখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জমি দখলের পাশাপাশি রেলওয়ের আবাসন ব্যবস্থাও বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ২ হাজার ৬৭০টি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ১৫০টি বাংলো, ৭০০টি দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টার এবং বাকি এক কক্ষবিশিষ্ট আবাসন। এসব কোয়ার্টারের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি অবৈধ দখলে রয়েছে। তবে এ সম্পর্কিত তথ্য ও পরিসংখ্যান জানাতে রেল কর্তৃপক্ষ সময় চেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবসর প্রাপ্ত এক কর্মচারী জানান, এসব কোয়ার্টারের অনেকগুলো অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু কোয়ার্টার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রিও হয়েছে। গত পাঁচ বছরে সৈয়দপুরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ৫২টি মামলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থানা পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ না করায় ডাকযোগে মামলার নথি পাঠাতে হয়।

এদিকে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২০’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, রেলের লিজকৃত জমিতে লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে কেবল একতলা কাঁচা বা সেমিপাকা (টিনশেড) অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে। বহুতল কিংবা স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এ সরকারি জমি, বিশেষ করে রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল, ভোগদখল বা স্থাপনা নির্মাণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান, লিজ বাতিল, ফৌজদারি মামলা, গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তুএসব আইন ও নীতিমালা কাগজেই রয়েছে, বাস্তবায়ন নাই।

গত ৮ জুন গোলাহাট এলাকায় রেলওয়ের জলাশয় ভরাট করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। রেলওয়ের জলাশয় ভরাট করে নির্মিত ৯টি পাকা ও আধাপাকা বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। রেলওয়ের নোটিশে ৮ ও ৯ জুন অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও মাত্র একদিন অভিযান চালিয়েই তা বন্ধ হয়ে যায়। এর কোন কারণ জানা যায়নি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, আগে রেলওয়ের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ছিল, এখন তা নেই। ফলে আমরা সরাসরি উচ্ছেদ বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারি না। কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিতে হয়। এসব প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ ফলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ