সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি; অপহরণ মামলার অভিযোগও তদন্তাধীন
এনসিপির পাল্টা অভিযোগ: নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’
মৌলভীবাজার পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জেলা এনসিপির নেতারা
মো. রুহুল আলম রনি, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে দলটির জেলা শাখা। সংগঠনের দাবি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দায় আড়াল এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করেছেন। তবে একই ঘটনায় এনসিপির এক নেতাকে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।
রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জেলা এনসিপির নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, কামরুল হাসান, জাবেদ রহমান ও শাফাকাত হোসেন সাদেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়িতে হামলা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে কমলগঞ্জের শমসেরনগরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতেও একই ব্যক্তিরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
এনসিপির নেতারা বলেন, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয় এবং পরে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের দাবি, মামলার এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের অনেকেই সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে জানেন না এবং তাদের সম্মতিও নেওয়া হয়নি। এ কারণে মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, "আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।"
তারা আরও জানান, ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, যা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ হাসান, সদস্য সচিব রুহুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান বিন জাকারিয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বিমল কুমার সিংহসহ অন্যান্য নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রাতে এনসিপির জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে মৌলভীবাজার শহর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে শ্রীমঙ্গল এলাকায় নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্ত চলছে।
কমেন্ট বক্স