দৌলতপুরে দুর্গম চরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে এখনো বদলায়নি চরের দৃশ্যপট
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার দূর্গমচরাঞ্চলের যমুনার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা
মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ : ক্ষমতার রদবদল হলেও এখনো পর্যন্ত তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার দূর্গমচরাঞ্চলের যমুনার ভাঙ্গন কবলিত বেষ্টিত ০৩ টি ইউনিয়ন (বাঘুটিয়া -চরকাটারিয়া ও বাচামারা)। যার অধিকাংশ ইতিপূর্বে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কৃষি নির্ভরশীল প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস এ অঞ্চলের একমাত্র কৃষি মালামাল যাতায়াতের ব্যবস্থা হিসেবে ব্যয়বহুল ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার করা হয়।সাধারণ মানুষদের যাতায়াতের জন্য মটর সাইকেলের কোন বিকল্প যানবাহন নেই।
১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ওমর আলি উচ্চ বিদ্যালয়) ও ১ টি দাখিল মাদ্রাসা (চরকালিকাপুর সপুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা) এবং ১ টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসা) সহ ৬৪ নং চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে বর্তমানে চরকালিকাপুর সপুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ২০০ মিটারের ভাঙ্গন প্রতিরক্ষামূলক জিওব্যাগের কার্যক্রম চলমান।
তবে শিক্ষাব্যবস্থা কিছু টা উন্নত হলেও বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বর্ষার মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় তেমন কোন রাস্তাঘাট নেই বললেই চলে।
এছাড়াও বিভিন্ন হাট- বাজার (বাঘুটিয়া
বাজার ও পারুরিয়া বাজার এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহ সরকারি -বেসরকারি স্থাপনাগুলো) যাতায়াতের ব্যবস্থাপনা ঝুকিপূর্ণ সাকু থাকায় বর্ষায় মৌসুমে নড়বড়ে হয়ে যাওয়াতে মারাত্মক অসুবিধা হয়। এমনকি গুরত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় এখনো স্থাপন করা হয়নি কালবার্ট কিংবা ব্রীজ।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন,যমুনা তীব্র ভাঙনের ফলে প্রতিবছর ই আমাদের এ অঞ্চলে সরকারী ও বেসরকারি স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে পড়ছে এবং মানুষের বসতভিটা ও শস্য ক্ষেত্র নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
পারুরিয়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মুক্তার হোসেন আরো বলেন,বিগত দিনে আমাদের শত শত বিঘা যমুনা নদীর ভাঙনের ফলে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৩-৪ বার নদী ভাঙ্গার পরে ও বর্তমানে পারুরিয়াতে অবস্থানরত বসতভিটা টুকু যমুনা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে দিনরাত পাড় করছি।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার এনামুস সালেহীন মুঠোফোনে বলেন, চরাঞ্চলের বাচামারাতে একটু নতুন ২ কিঃ মিঃ নতুন সড়ক কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্তি করেছি এবং এবছর নতুন আইডিভুক্ত কাজের প্রস্তাবনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর ফিরোজ মুঠোফোনে আরো বলেন, বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি আমাকে লিখিত আকারে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।
এ অঞ্চলে যাতায়ত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় স্বাস্থ্য সেবাও চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় বিশেষ ভাবে গর্ভবতী মায়ের জন্য।
সূত্রে জানা যায়,বাঘুটিয়া ৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক ইতিপূর্বে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুভুদ্ধি আর কল্যানপুরে স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম চলমান।এছাড়াও পাচুরিয়া (বাসাইল)কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পর্যাপ্ত ঔষুধের অভাব ও জনবল সংকটও রয়েছে বলে সুশীল সমাজ মন্তব্য করলেও বর্তমানে কোন ঔষুধের তেমন কোন ঘাটতি নেই বলে মন্তব্য করেন দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মেহেরুবা পান্না।
তিনি বলেন, দূর্গম চরাঞ্চলে আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবা অব্যহত আছে। জনবল ও স্বাস্থ্য সেবার কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে কিন্তু সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যপার। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষে বার বার বিষয়টি অবগত করেছি।
মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ এসএম জিন্নাহ কবীর মুঠোফোনে বলেন,আমরা ইতিমধ্যে সরকারিভাবে যমুনার ভাঙন কবলিত বেষ্টিত বেশ কিছু স্থানে ভাঙন প্রতিরক্ষামূলক( জিওব্যাগ) এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাসের মধ্যে দূর্গম চরাঞ্চলে বেশ কিছু মাটির রাস্তা সহ ইটের নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে লক্ষ্যে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী'র সাথে কথা বলেছি।
আশা করি অতি দ্রুত অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের অনেকটা স্বাস্থ্য -চিকিৎসা সহ জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন করতে সক্ষম হবো।
নদী ভাঙনের ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন,যমুনার ভাঙন কবলিত বেষ্টিত এলাকায়(চরকালিকাপুর সপুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা)সংলগ্ন ভাঙন প্রতিরক্ষামূলক ২০০ মিটারের জিওব্যাগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সামনে আমরা আরো ব্যাপক পরিসরে কাজ করার চেষ্টা করবো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থায়ী একটি বাঁধ নির্মাণসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন এবং অবহেলিত রাস্তা-সংস্কার করা সময়ের দাবি।
কমেন্ট বক্স