০৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

​সুন্দরগঞ্জে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ব্যাহত শতশত একর জমির চাষাবাদ

আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬
​সুন্দরগঞ্জে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ব্যাহত শতশত একর জমির চাষাবাদ ​সুন্দরগঞ্জে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা

জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : পানি নিষ্কাশনের সরকারি কালভার্ট ও ছোট ছোট কয়েকটি ব্রীজ থাকলেও বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম ভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করার কারণে শতশত একর আবাদি জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে ওই জমিতে ধান রোপণসহ অন্যান্য চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।কাজে আসছে না কালভার্ট ও ব্রীজগুলো। এ বিষয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন সহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্ৰহণে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ করেছে ঐ এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকগণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমত, তালুক ফলগাছা, মনিরাম, মনিরাম কাজী, ও সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম শিবরাম এলাকার বর্ষাকালীন বৃষ্টির উজানের পানি ঐ এলাকার ৫টি ব্রীজের মাধ্যমে উত্তর ও পশ্চিম দিক হইতে পশ্চিম শিবরাম মৌজার নিচু এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্ব দিকে চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে ঐ এলাকার মৃত আজিজল হকের ছেলে মোঃ এমদাদুল হক নিশিত তার ইটের ভাটার জন্য পুকুর থেকে মাটি পরিবহনের জন্য পানি প্রবাহের নিচু এলাকায় উঁচু করে রাস্তা তৈরি করায় পানি প্রবাহ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে চলমান বৃষ্টির পানি জমাট হয়ে জলাবদ্ধতা সহ কৃষকদের শতশত একর জমি আমন চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ঐ এলাকার মোঃ শমেস উদ্দিনের ৪০ বিঘার জমির পুকুরের পাড় তৈরি করায় সরকারী রাস্তায় পানি প্রবাহের খোলা জায়গায় মাটি ভরাট করে পুকুরের পাড় বাঁধলে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এর কারণে বর্তমানে আমন চাষের জন্য এলাকায় কৃষি জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে কৃষকদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে যেকোনো সময় ঐ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে এমদাদুল হক নিশিত ও সমেস উদ্দিন বলেন আমাদের কারণে শুধু জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। বিভিন্ন স্থানে অনেকে তাদের জমি নিজেদের মতো করে ভরাট করেছে আর একারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐ এলাকাগুলোর  জলাবদ্ধতার কারণে শতশত একর জমি এখন এক ফসলে পরিণত হয়েছে। এখন কেবল বোরো মৌসুমে একবার ধান উৎপাদন করতে পারছেন জমির মালিকরা। আর আমন মৌসুমে জমি গুলো এখন জলাবদ্ধতায় ছোট ছোট পুকুরে পরিনত হয়েছে।বিশাল এলাকাজুড়ে পানি আর শেওলা। 
যখন উপজেলা জুড়ে পানির অভাবে সেচ যন্ত্রের সাহায্যে কৃষকরা আমনের চারা রোপণ করছেন তখন ঐ এলাকায় প্রায় শতশত একর জমি জলাবদ্ধতার কারণে পরে আছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা।

এলাকার  ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, কালভার্ট ও ব্রীজগুলো থাকলেও কোনো কাজে আসছে না, কারণ বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা তাদের জমি গুলো উঁচু করে ভরাট বিভিন্ন স্থানে খামার করার কারণে পানি বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ ।আর এ থেকেই জলাবদ্ধতার শুরু। এ কারণে ৩ ফসলি জমিতে বছরে একবার আবাদ করতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।
আয়ের প্রধান উৎস ব্যাহত হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। 

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা আমার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কিছু অংশ এবং সোনারায় ইউনিয়নের কিছু অংশ শুধুমাত্র কৃত্রিমভাবে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে এ জলাবদ্ধতা।যার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কৃষকরা। আমি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করে জলাবদ্ধতা দুরকরণ সহ পানি নিষ্কাশনের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করলে এলাকার কৃষকরা চরম দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি মুঠোফোনে বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্ৰহণ করবো।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ