০৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

​পাবনার সাঁথিয়ায় যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬
​পাবনার সাঁথিয়ায়  যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি সাঁথিয়ায় যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

মিজানুর রহমান, পাবনা : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে জুয়েল রানা (৩৪) নামের এক যুবককে লোহার পাইপ, রড ও হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিয়নের নামার জোলা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, সাঁথিয়ার চর কলাগাছী গ্রামের মো. হবির ছেলে রাসেল (৩৪), জয়েনের ছেলে মো: শাহীন (৩৫), মো: হবি (৫৮), মো: আলী (৪৫), মো: হালিম (৪৫), মো. আলীর ছেলে রাজ্জাক (২৫) ও ওয়ালিদ (২২)। অন্যদিকে ভুক্তভোগী জুয়েল রানা একই উপজেলার বলরামপুর গ্রামের শুকুরের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জুয়েল রানা একজন ভ্যানচালক। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চব্বিশ মাইল থেকে ভ্যান নিয়ে কাশিনাথপুরের নামার জোলার এলাকায় পৌঁছালে হবি, রাসেল, শাহীন, আলী, রাজ্জাক ও ওয়ালিদ সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পথরোধ করে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালায়। এসময় অভিযুক্তরা হাসুয়া, লোহার পাইপ, রড ও বাটাম সহ দেশীয় অস্ত্রে তাকে মারধর করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত জুয়েল রানা বলেন, আজ থেকে ৫/৭ বছর আগে আমার আগের বউয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে রাসেল। সেটি আমি জেনে যাবার পর ওই বউকে ডিভোর্স দিয়েছি। এ নিয়ে ওদের সাথে বড় কোনো ঝামেলাও করি নাই। অথচ এতো বছর পর হঠাৎ আমাকে এভাবে মারধর করলো। আমার হাত ভেঙে দিছে। পা, পিঠ সারা শরীরে যেভাবে মেরেছে তাতে ওরা আমাকে মেরেই ফেলতে চাইছিলো।

আহতের বোন সুফিয়া খাতুন বলেন, রাসেল মহিলাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করবে আর বাপ বেটা সবাই মিলে মানুষকে এভাবে মারবে, এটা কিরকম কথা। আমার ভাই ভ্যান চালায়ে খায়, গ্যাঞ্জাম বোঝে না। অথচ তাকে মারতে মারতে রাস্তার পাশের পাট খেতে নিয়ে যেতে চাইছিলো। ওই খেতে নিতে পারলে একেবারে মেরে ফেলতো। পরে বলতো ভ্যান চুরি করতে ওকে মেরে ফেলে রেখে গেছে কারা যেনো। আমি এর বিচার চাই।

আহতের ভাই মোক্তার হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওকে যেভাবে মারা হয়েছে তা বর্ণনা করার মত না। ওরা জামায়াত করে, সাঁথিয়ায় জামায়াত নির্বাচিত হইছে জন্য ওরা বেশি বেশি ক্ষমতা দেখাচ্ছে। আমি এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

এব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, এ বিষয়ে অসসম্পূর্ণ একটি লিখিত অভিযোগ থানায় দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তারা আহতকে চিকিৎসা করাতে ব্যস্ত। পূর্ণাঙ্গ অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ