মৌলভীবাজারে নিখোঁজের ১৮ দিন পর মাটির নীচ থেকে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারে নিখোঁজের ১৮ দিন পর মাটির নীচ থেকে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
মো. রুহুল আলম রনি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের প্রায় ১৮ দিন পর এক নারীর মরদেহ স্বামীর বসতবাড়ির উঠানের প্রায় ১০ ফুট মাটির নীচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে ভিকটিমের স্বামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়েদা বেগম রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে রাজনগর থানার এসআই অরূপ সরকার ৫ জুলাই বিকেলে আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী গত ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তাকে থানায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ৫ জুলাই পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটককৃত আলমগীর হোসেন জানান, গত ১৭ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি তার সহযোগীসহ জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। একদিন পরে মরদেহ নিজ বসতবাড়ির উঠানে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলমগীর লাশ পুতে রাখার স্থান দেখিয়ে দেয়। ওই স্থান থেকেই মাটি কুঁড়ে লাশ উত্তোলন করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে মাটির নীচে সিসি ঢালাই ভেঙ্গে বালির বস্তা দিয়ে চাপা অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘাতক স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ৭ জুন দুপুরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে রাজনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় বাড়ির উঠানে মাটি খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ প্রায় ১০ ফুট মাটির নীচ থেকে উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় উৎসুক জনতা ঘাতকের ফাঁসি চেয়ে শ্লোগান দেয়।
কমেন্ট বক্স