দুর্নীতির অভিযোগে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ বরখাস্ত
অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক
মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ: ভুয়া বিল-ভাউচার, নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ লুৎফর রহমান আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ জুলাই থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি (সংশোধিত)- ২০১৯ অনুযায়ী মোঃ লুৎফর রহমান আকন্দকে কলেজের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী অভ্যন্তরীণ অডিটে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক অর্থবছরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন, কলেজ তহবিলের অর্থের হিসাব-অসঙ্গতি এবং নিয়োগে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কলেজের তহবিলে নগদ ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা সংরক্ষিত থাকলেও পরবর্তীতে ওই অর্থ ব্যয়ের যথাযথ হিসাব পাওয়া যায়নি বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ উপস্থিতিতে একযোগে স্বাক্ষর করে অধ্যক্ষের কথিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার প্রতি পূর্ণ অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট বক্স