সৈয়দপুরে আগরবাতি বানিয়ে লাভবান হচ্ছে নারীরা
আগরবাতি বানাতে ব্যস্ত নারীরা
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী : নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তৈরি হচ্ছে আগরবাতি, কয়েল, সাবান, ট্রাঙ্ক, স্যুটকেস, মোমবাতিসহ নানা ধরণের কারুপণ্য। শতশত বেকার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে এসব কারখানায় কাজ করে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে আগরবাতি।
আগরবাতি তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় কয়লার গুঁড়া, কাঠের ভুসি ও বিজলার ছালের গুঁড়া। নির্দিষ্ট অনুপাতে এসব উপকরণ মেশিনে পেস্ট (নরম) করে, সেই মিশ্রন বাঁশের কাঁঠিতে লাগিয়ে আগরবাতি তৈরী করা হয়। রোদে শুকানোর পর সুগন্ধি লাগিয়ে নিজস্ব ব্র্যান্ডে বাজারজাত করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত কারখানা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহরের ২২টি বিহারি ক্যাম্পে প্রায় ৫-৬ হাজার নারী সরাসরি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ঘরের কাজের পাশাপাশি আগরবাতি তৈরি করে পরিবারের আয় বাড়াচ্ছেন এবং নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে।
এক সময় বাড়ির উঠানে আগরবাতি তৈরি হতো শুধু হাতেই। এখন প্রযুক্তির ব্যবহার করে মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদন হচ্ছে। এতে শ্রম কমেছে, উৎপাদনের গতি বেড়েছে এবং পণ্যের মানও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার উদ্যোক্তা মাসুম বলেন, আগে সম্পূর্ণ হাতের ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে মেশিন ব্যবহারের ফলে শ্রম কমেছে, উৎপাদন বেড়েছে। ফলে বাজারেও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কাজ করে নারী শ্রমিকরা লাভবান হচ্ছে।
শহরের গোলাহাট, মিস্ত্রিপাড়া, সাহেবপাড়া, বাবুপাড়া, ইসলামবাগে নারীদের পাশাপাশি শিশু-কিশোরীরা এসব কারখানায় কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। উদ্যোক্তারা উপকরণগুলো বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং প্রস্তকৃত পণ্যগুলি নিয়ে যান। একজন নারী প্রতিদিন কয়েক হাজার আগরবাতি তৈরি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। যা পরিবারের ব্যয়ভার, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে পারছে।
সাহেব পাড়ায় আগরবাতি তৈরি কারখানার নারী শ্রমিক জলি, সুফিয়া, তারানা, সুমী জানান, গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে আগরবাতি তৈরি করে নিয়মিত আয় করছেন। এই আয় পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করছে। আবার অনেক নারী নিজেদের উদ্যোগেও বাসা বাড়ীতে উৎপাদন শুরু করেছেন।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারজাত করণের সুযোগ সৃষ্টি হলে সৈয়দপুরে আগরবাতি শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। অপরদিকে, বেকার নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হবে।
বিসিক সৈয়দপুর উপজেলা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারজাতের সুযোগ সৃষ্টি হলে আগরবাতি শিল্প আরও বৃদ্ধির সম্ভবনা রয়েছে। তবে এ কাজ করে নারী শ্রমিকরা লাভবান হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা নূরেল হক জানিয়েছেন, আগরবাতি শিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও ঋণ সুবিধা প্রদানে তারা কাজ করছেন।
কমেন্ট বক্স