গাংনীতে কৃষকের সেচ পাম্প ও ট্রান্সফরমার চুরি, বিপাকে চাষিরা
সেচ পাম্প ও ট্রান্সফরমার চুরি
মাসুদ রানা, মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে গভীর রাতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মাঠের সেচ পাম্প চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৫টার মধ্যবর্তী সময়ে উপজেলার মঠমুড়া ও হাড়িয়াদহ গ্রামে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে। চলতি সেচ মৌসুমে আকস্মিক এই চুরির ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গাংনী উপজেলার মঠমুড়া ইউনিয়নের পুরাতন মঠমুড়া গ্রামের মৃত রহিম ফরাজির ছেলে কৃষক গঞ্জের আলী (৬৫)-এর চাষাবাদি মাঠের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে একটি ট্রান্সফরমার নামিয়ে নেয় চোরচক্র। পরে সেটির ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও যন্ত্রাংশ লুট করে ট্রান্সফরমারের ফাঁকা খোলসটি ফেলে রেখে যায়।
অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের কইকুড়ি খালের মাঠ থেকে মৃত মোহাম্মদ আলির ছেলে মহিবুল ইসলামের একটি সেচ পাম্প (মোটর) চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মাঠের সেচ যন্ত্র ও ট্রান্সফরমার হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষকেরা। চুরির বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে কৃষকেরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গহর আলী বলেন, বর্তমান মৌসুমে ফসলে নিয়মিত পানি দেওয়া খুবই জরুরি। এই সময়ে ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ায় মাঠের সেচ কাজ পুরোপুরি বন্ধ। দ্রুত এটি মেরামত বা নতুন ট্রান্সফরমার না পেলে চোখের সামনে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। সেচ পাম্প হারানো কৃষক মহিবুল ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে চোরেরা আমার আয়ের একমাত্র উৎস সেচ পাম্পটি নিয়ে গেছে। নতুন একটা মোটর কেনার সামর্থ্য এই মুহূর্তে আমার নেই। এখন কীভাবে মাঠে পানি দেব আর কীভাবে ফসল বাঁচাব, তা ভেবে পাচ্ছি না।
অন্যান্য স্থানীয় কৃষকেরাও জানান, এই চুরির ফলে পুরো এলাকার সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই চোরচক্রকে গ্রেপ্তার এবং মাঠে পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃষকদের এই সংকটে আইনি পদক্ষেপ ও মাঠে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী কৃষকেরা ফসলের ক্ষতি এড়াতে এবং মাঠের নিরাপত্তা ফেরাতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান,চুরির খবর পাওয়ার পর থেকেই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
কমেন্ট বক্স