০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও তিস্তাপাড়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও তিস্তাপাড়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে দেয়ায় প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি। শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬।

এদিকে, তিস্তাপাড়ে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে  তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই (স্লুইস গেট) খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।


উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি রাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও আজ শুক্রবার সকাল থেকে কিছুটা কমেছে। তবে পানি কমার এই সাময়িক স্বস্তি ছাপিয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ রয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তার পানি তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকেল গড়াতেই দ্রুত বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে থাকার পর রাত ৯টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। হঠাৎ নদীর পানি এভাবে দ্রুত ওঠানামা করায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

আদীতমারী  উপজেলার গোবর্ধন এলাকার কৃষক রিপন মিয়া বলেন, আমাদের তিস্তা  নদীর পানি কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আমরা এখনও বাড়িতে অবস্থান করছি, তবে পানি আরেকটু বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে কি না, তা জানি না। কয়েক দিন ধরে দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে আসছে।
 

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছি।

নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বলা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদীপাড়ের মানুষদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ