টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত মা হাতির মৃত্যু, বাঁচাতে ব্যর্থ বন বিভাগ
টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত মা হাতির মৃত্যু
এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার ব্যুরোচীফ: কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোববার হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগ জানায়, শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নাইট্যংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যায় বিশাল আকৃতির মা হাতিটি। এতে তার পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। গুরুতর আঘাতের কারণে সে আর দাঁড়াতে পারেনি এবং ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকে।
খবর পেয়ে টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুচিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও ঘটনাস্থলে এসে হাতিটির চিকিৎসায় যুক্ত হন। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত রোববার হাতিটির মৃত্যু হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। বিশেষ করে পেছনের দুটি পায়ে মারাত্মক ক্ষতির কারণে সেটি আর স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় হাতিটির অসহায় ছটফটানি অনেককে আবেগাপ্লুত করে। বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এলাকাবাসী উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
পরিবেশবিদদের মতে, বাংলাদেশে বন্য হাতি সংরক্ষিত ও সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকাভুক্ত। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, মানুষের অনুপ্রবেশ, খাদ্যসংকট, দুর্ঘটনা এবং বিচরণপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় হাতির মৃত্যু ও মানুষ-হাতির সংঘাত বাড়ছে। এমন প্রতিটি মৃত্যু দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ক্ষতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির প্রাকৃতিক বিচরণপথ সংরক্ষণ, বনাঞ্চল দখল ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা জরুরি। টেকনাফের এ ঘটনা আবারও বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।
কমেন্ট বক্স