১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জুলাইযোদ্ধাদের ভুলে যাওয়া আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: জামায়াত আমির

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬
জুলাইযোদ্ধাদের ভুলে যাওয়া আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: জামায়াত আমির সংসদ অধিবেশনে জামায়াত আমির (ফাইল ছবি)

সংসদে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। এ সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের ভুলে যাওয়া নিজেদের আত্মার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
 

​জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আন্দোলনের দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের সংগ্রামকে উপেক্ষা করা বর্তমান সরকারের জন্য ‘আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত এবং ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন পৃথক এক বিবৃতিতে মহান ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেশবাসী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের চেতনার কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক আহত যোদ্ধা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য এখনও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রয়োজনে তাদের পুনর্বাসনে সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কমানোর প্রস্তাব দিয়ে নিজের সুবিধাও আগে ছাড়তে প্রস্তুত থাকার কথা জানান তিনি।

জুলাই জাদুঘর এখনও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংস্কার কাজ চলমান রেখেই জাদুঘর খুলে দেওয়া যেত। একইসঙ্গে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

জুলাই গণহত্যার বিচারে কোনও ধরনের ধীরগতি বা গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়, তবে নির্দোষ কেউ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যায় উসকানি দেওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত।

এদিকে একই দিন দেওয়া বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। এদিন বৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ সারা দেশের আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই সেই ঋণের আংশিক প্রতিদান দেওয়া সম্ভব।

তিনি আগামী ১৬ জুলাই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ