১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে হতে পারে আইএমএফের নতুন ঋণচুক্তি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তি

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৬
ডিসেম্বরে হতে পারে আইএমএফের নতুন ঋণচুক্তি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তি আইএমএফ
 

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৬০০ থেকে ৬৫০ কোটি) ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন ঋণচুক্তি সম্পন্ন করা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় হতে পারে।

তবে এবার শুধু ঋণ নয়, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক সংস্কার। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে আইএমএফ স্পষ্ট করে দিয়েছে— বাংলাদেশকে রাজস্ব আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।

 

অন্যদিকে সরকারও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় একসঙ্গে কঠোর সব শর্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই সংস্কার হবে ধাপে ধাপে।

 

নতুন ঋণ কেন প্রয়োজন

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আগের কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে নতুন বাস্তবতায় একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির প্রস্তাব দেয়।

 

এই ঋণের অর্থ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেই নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন সহজ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পাঁচ বিষয়ে কঠোর বার্তা

১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে। এসব বৈঠকে সংস্থাটি পাঁচটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সেগুলো হলো– রাজস্ব আয় বৃদ্ধি; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা; সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার।

আইএমএফের মতে, প্রবাসী আয় ইতিবাচক থাকলেও বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং কম রাজস্ব আহরণ বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ