১৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

​স্কয়ার ক্লিনিকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, নিহতের বাবার সংবাদ সম্মেলন

আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬
​স্কয়ার ক্লিনিকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, নিহতের বাবার সংবাদ সম্মেলন নিহতের বাবার সংবাদ সম্মেলন

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলায় স্কয়ার ক্লিনিকে রাব্বিনা আক্তার সৃষ্টি নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত সৃষ্টি উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের সুন্দরখাতা গ্রামের রাবিউল ইসলামের মেয়ে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকালে জেলা শহরের একটি সাংবাদিক অফিসে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন নিহতের বাবা।

তিনি লিখিত অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ৮ আগষ্ট (২০২৫) সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশেনের জন্য ‘স্কয়ার ক্লিনিকে’ সৃষ্টিকে ভর্তি করা হয়। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক আক্তারুজ্জামান আমার মেয়ের সিজারিয়ান  অপারেশন করেন। অপারেশনের পর প্রসূতির পেটে প্রচন্ড ব্যথা হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ১১ আগষ্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে এক্সরে রিপোর্টে মেয়ের পেটে মারাত্বক জটিলতা (নার প্যাচ খেয়েছে ) ধরা পড়ে।

পরে অপারেশনের প্রস্ততির এক পর্যায়ে রমেকে “স্কয়ার ক্লিনিক” কতৃপক্ষ ফোন করে অপারেশন বন্ধ করে দেন। এরপর রাবিউল ইসলাম ব্যক্তিগত খরচে পাশেই তালুকদার হাসপাতালে পুনরায় অপারেশনে মেয়ের নার কেটে ফেলতে হয়। চিকিৎসরা জানান, ১৬ফিট নারের মধ্যে ১২ফিটই পচে গেছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মেয়ের বাঁচার সম্ভাবনা কম।  

রাবিউল আরও বলেন, স্কয়ার ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসার কারণে আমার মেয়ের এ অবস্থা হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ে ১১ মাসের একটি কণ্যা (মরিয়ম নেছা) সন্তান রেখে মারা যায়। এই এতিম শিশুকে নিয়ে বড় বিপদে আছি। মেয়ের চিকিৎসায় আমার ১০-১২ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, রংপুরে চিকিৎসা চলাকালিন ওই ক্লিনিকের মালিক সফিয়ার রহমান ও ম্যানেজার নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী দিয়েছেন এমনকি এখোনো হুমকী দিয়ে আসছেন। সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার মেয়ের নার নষ্ট করে দিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। যেন আর কোন প্রসূতি মা যথাযথ চিকিৎসা অভাবে মারা না যায়। আমি গরীব বলেকি দেশবাসির কাছে বিচার পাবনা। আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রির কাছে এর বিচার চাই।

এবিষয়ে ক্লিনিকের মালিক সফিয়ার রহমান জানান, এক বছরের আগের ঘটনা। আমার সঠিক জানা নেই। আমার ক্লিনিক ও রংপুরের ক্লিনিকের রিপোর্টে কি আছে সেটা দেখতে হবে। অপারেশনতো আমি করি নাই চিকিৎসক বলতে পারবে বলে ফোন কেটে দেন।

এব্যাপরে, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলেও ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, বরং ইউএনও ব্যবস্থা নিতে উদাসিনতা দেখিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, আমি কি করতে পারি। এটা স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমি দেখবো।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ