১৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

​মৃত্যুর পরও মানবকল্যাণে দেহ দান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা

আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬
​মৃত্যুর পরও মানবকল্যাণে দেহ দান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা সংগৃহীত ছবি

মাসুদ রানা, মেহেরপুর : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত চারু ও কারুশিল্পী গোলাম মোস্তফা শুক্রবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তিনি সাহারবাটী গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইমলাক হোসেনের মেজপুত্র।

জীবদ্দশায় দেশের জন্য অস্ত্র হাতে লড়েছেন, আর মৃত্যুর পরও মানবকল্যাণে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে নিজের দেহ দান করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন এই গুণী মানুষটি। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পক্ষে অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ তাঁর মরদেহ গ্রহণ করেন।

শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, তিনি সারা জীবন দেশের কথা এবং মানুষের কথা ভেবেছেন। উনি বলতেন, 'মরার পর মাটি তো এই শরীর খেয়ে ফেলবে, তার চেয়ে যদি চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এটা দিয়ে শিখতে পারে, তবে দেশেরই উপকার হবে। আমরা তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি, এটাই আমাদের সান্ত্বনা।
গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুনতাজ আলী বলেন, গোলাম মোস্তফা শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং সৃজনশীল মানুষ। একাত্তরে তিনি দেশ স্বাধীনের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়েছেন, আর আজ মৃত্যুর পরও নিজেকে মানবকল্যাণে উৎসর্গ করে গেলেন। তাঁর এই মহৎ দৃষ্টান্ত এ দেশের ইতিহাসে ও আমাদের হৃদয়ে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষক জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিক্ষার জন্য মানবদেহের অবদান অপরিসীম। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা স্যারের এই মরণোত্তর দেহদান আমাদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের গড়তে বিশাল ভূমিকা রাখবে। আমরা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী হিসেবে সমাজকে যেমন তিনি সুন্দর কিছু উপহার দিয়ে গেছেন, ঠিক তেমনি মৃত্যুর পরও তাঁর এই মহৎ ত্যাগ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন মেহেরপুরের সুধীসমাজ।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ