২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি

সাদিক কায়েমকে জামায়াত প্রার্থী করছে, এনসিপির আসিফ মাহমুদ কী করবেন

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬
সাদিক কায়েমকে জামায়াত প্রার্থী করছে, এনসিপির আসিফ মাহমুদ কী করবেন সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার বিষয়টি মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এর আগেই এই সিটিতে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছিল জামায়াতের জোটসঙ্গী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আসিফ মাহমুদ এখন এনসিপির নীতিনির্ধারকদের একজন, দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। এনসিপি তাঁকে প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াতের দিক থেকে সাদিক কায়েমকে সেখানে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
 

এটাকে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা না হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আবার কারও কারও মত, দুই দলই এখন নিজেদের মতো করে প্রার্থী ঠিক করছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট বেঁধে অংশ নিয়েছিল জামায়াত ও এনসিপি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কবে হবে, তা চূড়ান্ত না হলেও বছরের শেষ দিকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আপাতত দলের মনোযোগ একক প্রস্তুতিতে। যেহেতু এখনো তফসিল ঘোষণার বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি, ফলে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাদিক কায়েমকে জামায়াতের প্রার্থী করার বিষয়টি নিয়ে এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের সমর্থকদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের সম্মুখভাগে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে স্থান পাওয়া তিন ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে তিনি একজন। নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সরকার থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের মুখপাত্র হন আসিফ মাহমুদ। ঢাকা–১০ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হননি।
 

এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আসিফ মাহমুদকে সমর্থন দিতে জামায়াতের দিক থেকে আপত্তি ছিল। দলটির পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল, উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের সময় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আসিফকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব নয়। পরে আসিফ আর নির্বাচনে অংশ নেননি। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে।’

অবশ্য এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্যের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। সে কারণে তাঁর প্রতি জামায়াতের তীব্র আপত্তি আছে।

অবশ্য জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সেই বিষয়গুলো কী, তা বলতে চাননি এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের ওই নেতা।

 

সিদ্ধান্ত তফসিলের সময়

এনসিপি এখন পর্যন্ত এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর সিটিসহ পাঁচ সিটির মেয়র পদের পাশাপাশি ১০০ উপজেলা–পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৯ মার্চ তারা পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সেখানে ঢাকা দক্ষিণে দলটির প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদের নাম আসে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অন্যান্য দলের মতো এনসিপির নেতারাও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্য দলের অনেকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থেকে এই আলোচনা।

মামুনুল হকের দল এনসিপির মতোই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে রয়েছে। আবার কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি ছিলেন। ১১–দলীয় ঐক্য ছেড়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন এবং এই জোটের কর্মসূচিতে আর না থাকার ঘোষণা দেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারাও ওই বৈঠকে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে মামুনুল হকের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের আলোচনার ভিন্ন তাৎপর্য আছে বলে মনে করা হচ্ছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ