২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

​গোদাগাড়ীতে মাদক কারবার নিয়ে উদ্বেগ, কঠোর অভিযানের দাবি

আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬
​গোদাগাড়ীতে মাদক কারবার নিয়ে উদ্বেগ, কঠোর অভিযানের দাবি সংগৃহীত ছবি

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ীতে মাদক কারবার বিস্তার লাভ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—মাদারপুর এলাকার জাহাঙ্গীর, নওসাদ আলী, টিপু, মনির, জহুরুল মেম্বার, ইব্রাহিম ও শামীম; জেলেপাড়ার তরিকুল; সরমংলার মিজান, আদিল ও কাবা; সিএনবি মোড়ের শীষ মোহাম্মদ; ফাজিলপুরের আনারুল ও বুলবুল; মাটিকাটার সোহেল চেয়ারম্যান; রেলগেট এলাকার নয়ন ডাক্তার; মেডিকেল পূর্বপাড়ার দুরুল ও রাজা; মহিশালবাড়ীর মোফা কমিশনার ও কাজল; এবং হলের মোড়ের শরিফ উদ্দিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তবর্তী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে মাদক পাচার ও বেচাকেনা পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে যুবসমাজের ওপর। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযোগ অনুযায়ী বড় চক্রের মূল হোতারা অনেক সময় আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। তাদের ভাষ্য, অল্প কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে গোদাগাড়ীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, গোদাগাড়ীকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।

সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। তাদের বিশ্বাস, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এই জনপদকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ