০২ অক্টোবর ২০২৬ , ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

​অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬
​অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

এস. এম. লুৎফুর কবির, কক্সবাজার ব্যুরো : বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এসব প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বিশ্বব্যাপী সাইবার স্ক্যামের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বন্দী রেখে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করার ঘটনাও গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দী।’

প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (২ আগস্ট) কক্সবাজারের রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতাধীন ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ এবং ‘কমব্যাটিং হিউম্যান ট্র্যাফিকিং, পিপল স্মাগলিং অ্যান্ড সাইবার স্ক্যাম-ফোর পি ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান, সাইবার প্রতারণা এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে সুরাইয়া আমিন।

তিনি বলেন, মানব পাচার একটি সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উম্মে সুরাইয়া আমিন বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যারা যাবেন, তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে বিদেশে যাওয়া উচিত। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়ে, তেমনি মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও প্রতারণার ঝুঁকিও কমে।

সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দালাল ও প্রতারক চক্রের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে মানব পাচার, শোষণ, নির্যাতন, আর্থিক ক্ষতি এমনকি জীবনহানির ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত মাধ্যমে তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, বিদেশে চাকরির নামে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতি থেকে সুরক্ষিত থাকতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিকল্প নেই।

আলোচনা সভার শেষে মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডেপুটি ম্যানেজার, রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কক্সবাজার সেন্টারের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কক্সবাজার সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ