মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তিনদিন যাবৎ ধীরগতি
মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তিনদিন যাবৎ ধীরগতি
মাহাবুব আলম বাবু, কুমিল্লা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ৩দিন এ ধীরগতি বর্তমান জ্যামে পরিনত হচ্ছে। আজ শনিবার ছুটির দিনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের বেহাল দশা, যার ফলে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকা থেকে শুরু করে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের চাকা থমকে গেছে। একই সাথে ঢাকা-চট্রগ্রাম মুখী লেনেও উল্টোপথে গাড়ি প্রবেশ বাড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রী ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অসুস্থ রোগী এবং পরিবহন শ্রমিকদের।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, যানজটের মূল কেন্দ্রবিন্দু কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহের বর্ষণে এই অংশের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য ঢাকামুখী লেনটি আংশিক বন্ধ রেখে এক লেনে উভয়মুখী গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। একটি মাত্র সরু লেন দিয়ে দুই দিকের গাড়ি পাস করাতে গিয়েই মূলত পেছনের দিকে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন কিছু চালক দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে অধৈর্য হয়ে উল্টো পথ দিয়ে গাড়ি এগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। এর ফলে যানজট মুহূর্তের মধ্যে চট্টগ্রামমুখী লেনেও ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লা রুটে যাতায়াতে যেখানে বড়জোর দুই ঘণ্টা সময় লাগে, শুক্রবার সেখানে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। দীর্ঘ এই অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নারী, শিশু এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য যাতায়াত করা অসুস্থ রোগীরা। বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে জ্যামের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে দেখা গেছে।
এছাড়াও হাজার হাজার গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক সড়কে আটকা পড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখা যায়। প্রধান সড়ক এড়াতে অনেক চালক আঞ্চলিক ও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করায় সেই সংযোগ সড়কগুলোতেও অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ছড়িয়ে পড়ে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী অংশের এই বেহাল দশা এবং গত কয়েকদিনে গর্তে মালবাহী গাড়ি আটকে যাওয়ার কারণে সমস্যাটি প্রকট হয়েছে। যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ও একাধিক মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সদস্যরা উল্টো পথের গাড়ি ঠেকানো এবং ধীরগতির গাড়িগুলোকে সচল রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, আমতলী এলাকার সড়কের জ্যামিতিক গঠনের কারণে (রাস্তার দুই পাশ বা শোল্ডার মূল লেনের চেয়ে উঁচু হওয়ায়) বৃষ্টির পানি সহজে নামতে পারে না। ফলে সংস্কার কাজ করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।
কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ কবীর আহমেদ জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই মহাসড়কের এই নির্দিষ্ট অংশে জোড়াতালির মেরামত করা হয়, যা স্থায়ী কোনো ফল দেয় না। দেশের লাইফলাইন খ্যাত এই চার লেন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকৌশলগত সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।
কমেন্ট বক্স