০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

ঝালকাঠি বিএনপিতে ‘অপ্রকাশ্য ক্ষমতার যুদ্ধ’, হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ চাইলেন মুন্না

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬
ঝালকাঠি বিএনপিতে ‘অপ্রকাশ্য ক্ষমতার যুদ্ধ’, হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ চাইলেন মুন্না মো. রেজাউল হাসান মুন্না
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পরস্পরকে দোষারোপ এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত দলীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মো. রেজাউল হাসান মুন্না।

রোববার (০৯ আগস্ট) তার নিজের ভেরিফাই ফেসবুকে লিখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঝালকাঠির বিএনপি পরিবার বর্তমানে ‘চরম সংকটের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ‘অপ্রকাশ্য ক্ষমতার লড়াই’। এতে দলের নিবেদিত ও ত্যাগী তৃণমূল নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মুন্না বলেন, ‘কে বড়, কার ক্ষমতা বেশি—এ নিয়ে প্রতিদিন অসম লড়াই চলছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কেউ কাউকে মানছেন না। দলীয় শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক আদর্শও যেন অনেকের কাছে গৌণ হয়ে পড়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন। অন্যদিকে দলের ভেতরে ‘সুবিধাবাদী’ একটি শ্রেণি সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজেকে একজন নিবেদিত বিএনপি কর্মী ও জুলাই আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে মুন্না বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ এমন পরিস্থিতি তাঁকে এবং তাঁর মতো অনেক নেতাকর্মীকে গভীরভাবে পীড়া দিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস থেকে দলের বর্তমান নেতাকর্মীরা কী শিক্ষা নিয়েছেন।

দলীয় শৃঙ্খলা, গঠনতন্ত্র ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। দল ও দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত প্রভাব, পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার প্রতিযোগিতা পরিহার করা জরুরি।

মুন্না তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক একটি উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো একটি জেলার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব পুরো দলের ভাবমূর্তির ওপর পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘একটি জেলার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যে পুড়ে শেষ হতে পারে রাজার মসনদ—এ কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া ছাড়া আমার মতো কর্মীদের আর কিছু করার নেই।’

ঝালকাঠি বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত নিরসনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মুন্না বলেন, দলীয় কোন্দল দীর্ঘায়িত হলে ক্ষোভ ও বিভাজন আরও বাড়বে। এর ফলে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নতুনভাবে দেশ গড়ার লক্ষ্যে দলীয় নেতৃত্ব কাজ করছে। এ অবস্থায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মুন্না বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই বার্তার মর্মার্থ সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, দোষারোপ ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাঁচলে নেতারাও বাঁচবেন, আমরাও বাঁচব। ভালোভাবে বাঁচব, মাথা উঁচু করে গর্ব করে বলতে পারব—সাবাশ বাংলাদেশ।’

মো. রেজাউল হাসান মুন্না বর্তমানে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ