৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধারে প্রশ্ন

আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬
​গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধারে প্রশ্ন ​গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধারে প্রশ্ন

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘এসকাফ’ উদ্ধারের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে এ অভিযানকে ঘিরে ঘুষের বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া, উদ্ধার করা মাদকের একটি অংশ গায়েব এবং প্রকৃত ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে অভিযান সাজানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নেপথ্যে জেলা ডিবির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব জড়িত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ  আশাফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গোদাগাড়ী থানার জৈটাবটতলা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় জনৈক মোঃ  মাসুদ রানার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর সিলভার-গোল্ডেন রঙের একটি প্রাইভেটকার নিয়ে দুই মাদক কারবারি অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি প্রাইভেটকারটি নিয়ে নাচোলের দিকে পালিয়ে যান। পরে তারা গাড়ি থেকে দুটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে যায়। পুলিশ বস্তা দুটি তল্লাশি করে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার করে বলে জানানো হয়।

এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার সোনামসজিদ গ্রামের মোঃ  রুবেল হক (২৬) এবং কমলাকান্তি রাণীহাটি গ্রামের মোঃ  কামিরুল (২৫)-কে পলাতক আসামি দেখিয়ে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

তবে পুলিশের এ বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, ঘটনার মূল সূত্র গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলা নয়; বরং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর ঘটনাটি ঘটে।

তাদের অভিযোগ, মাদক বহনকারী একটি প্রাইভেটকার গোমস্তাপুর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল এবং সেখান থেকেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করে। তাদের দাবি, পরে ওই ঘটনাকে গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলা এলাকার অভিযান হিসেবে দেখানো হয়।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে মোট ১ হাজার বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মামলায় ৪০০ বোতল দেখিয়ে বাকি ৬০০ বোতল গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি উদ্ধার হওয়া মাদকের ওই অংশ অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে মাদক কারবারিদের আহত অবস্থায় আটক করা হলেও তাদের মধ্যে একজনকে ৪ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এরপর পুরো ঘটনাটি অন্য এলাকায় দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ ঘটনায় জেলা ডিবির এএসআই মাহবুবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের অভিযোগ, উদ্ধার করা মাদকের একটি অংশ গায়েব এবং কথিত ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় তিনি নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি উপস্থিত ও সম্পৃক্ত ছিলেন। যদিও এ দাবিরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গোদাগাড়ীর জৈটাবটতলা এলাকা থেকে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।”

ঘুষ গ্রহণ, আসামি ছেড়ে দেওয়া, উদ্ধার করা মাদকের ৬০০ বোতল গায়েব এবং গোমস্তাপুরে কথিত দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

এদিকে, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ, প্রকৃত ঘটনাস্থল এবং কথিত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়মের বিষয়। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ