জামায়াতের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে।
অভিযোগ, “আওয়ামী লীগের কৃপা পেতে জামায়াতে ইসলামী সব সময় চেষ্টা করে। ‘৮৬ সালে দলটির সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।”
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
তিনি বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন দাঁড়িপাল্লা একে ‘৭১-কে হালকা করে দেখিয়েছে। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসলে স্বাধীনতাবিরোধীদের বীরত্বের ইতিহাস নেই, শুধু আছে দালালির ইতিহাস।”
তিনি বলেন, “আমার পরিচয় বাংলাদেশি, এটা ৭১-এর অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তে যুদ্ধ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত জোরেশোরে বলেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে।”
রিজভীর ভাষায়, “যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানদের তাড়িয়ে দিবে, যারা ইসরাইলকে তাদের পিতৃভূমি বলে, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলাম আঁতাত করতে চায়।”
জামায়াত আমিরের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, “সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনও ছবি নেই।” সেখানে ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানেরা ২৪-এ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।” রিজভী আরও বলেন, “আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড়, কোনটা ছোট— এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোনও লাভ হবে না। এই জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।”
এসময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক শামীম ও সহসভাপতি ড. কে এম আই মন্টি উপস্থিত ছিলেন।