সাড়ে তিন মাস পর কাপ্তাই হ্রদে ফিরল জেলেদের প্রাণচাঞ্চলতা
সাড়ে তিন মাস পর কাপ্তাই হ্রদে ফিরল জেলেদের প্রাণচাঞ্চলতা
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি : দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদে আবারও শুরু হয়েছে মাছ ধরা। উৎসবমুখর পরিবেশে মধ্যরাত থেকেই জাল ও নৌকা নিয়ে হ্রদের বুকে নেমে পড়েছেন হাজারো জেলে। ফলে দীর্ঘদিন পর কাপ্তাই হ্রদ সংলগ্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও ঘাটগুলোতে ফিরে এসেছে চেনা কর্মব্যস্ততা এবং জেলেদের কোলাহল।
জানা গেছে, কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য প্রতি বছরের মে মাস থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ বছর মাছের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে সাড়ে তিন মাস করা হয়েছিল। দীর্ঘ এই সময়ে হ্রদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবার চরম কষ্টে দিনাতিপাত করেছে। সরকারিভাবে দেওয়া বিশেষ ভিজিএফ চাল দিয়ে কোনোমতে দিন পার করেছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি শহরের বিএফডিসি (বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন) ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশ। হ্রদ থেকে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছে একের পর এক বোট। কেঁচকি, চাপিলা এবং কার্প জাতের মাছে ভরে উঠেছে আড়তগুলো। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখরিত চারপাশ। মাছের ওজন মাপা, বরফ দেওয়া এবং ট্রাকে লোড করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত শ্রমিক।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম দিনেই জালে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ছে কেঁচকি ও চাপিলা । তবে এবার চাপিলার আকার বেশ ছোট। দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ভুলে মুখে হাসি ফুটেছে হ্রদপাড়ের মানুষের। বিএফডিসির কমান্ডার মো: ফয়েজ আল করিম জানান,প্রথম দিনের আহরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখতে জেলে ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকেই সরকারি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কমেন্ট বক্স