৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​অপরাধ দমনে সাফল্য, কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠ ওসি টেকনাফের সাইফুল ইসলাম

আপলোড সময় : ১২-০৮-২০২৬
​অপরাধ দমনে সাফল্য, কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠ ওসি টেকনাফের সাইফুল ইসলাম ​অপরাধ দমনে সাফল্য, কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠ ওসি টেকনাফের সাইফুল ইসলাম

এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার ব্যুরোচীফ : সীমান্তঘেঁষা উপজেলা টেকনাফ। একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এমন একটি স্পর্শকাতর এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, নিয়মিত অভিযান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।

মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্ট তামিল এবং মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

কক্সবাজার জেলার নয়টি থানার মধ্যে টেকনাফ মডেল থানার এ অর্জনকে ওসি সাইফুল ইসলামের দক্ষ নেতৃত্ব ও থানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাফল্যের স্বীকৃতি মিলল জেলা পুলিশের সভায় সোমবার (১০ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের হাতে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা তুলে দেন।

ওয়ারেন্ট তামিল, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধার ও মানবপাচারকারীদের আটকে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে টেকনাফ মডেল থানার চলমান কার্যক্রম ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা আরও একবার সামনে এসেছে।

সম্মাননা পাওয়ার দিনেই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে সম্মাননা পাওয়ার দিনেই টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একাধিক হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামি এবং একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আব্দুল খালেক ওরফে নাহিদকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লেদা মৌলভীপাড়া এলাকার কালুর দোকানের সামনে ইটসলিং রাস্তা থেকে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় একটি নম্বরবিহীন সিএনজিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে আরও পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার নাহিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ম্যাগাজিনসহ পিস্তল, ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি, তিনটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, ৬৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি। এ ছাড়া একটি সাদা রঙের অ্যাংলেট ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি সিএনজি অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, আব্দুল খালেক ওরফে নাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, হত্যা ও অপহরণসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
টেকনাফে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে একের পর এক পলাতক আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং উদ্ধার হচ্ছে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের ধারাবাহিক কার্যক্রম টেকনাফের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ-জনতার সহযোগিতায় বাড়ছে সাফল্য
অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি সাইফুল ইসলাম। সর্বশেষ আব্দুল খালেক ওরফে নাহিদকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও আস্থা বাড়লে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া সহজ হয়। ফলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

‘এই অর্জন সবার’—ওসি সাইফুল ইসলাম
জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের এই অর্জনকে টেকনাফ মডেল থানার সব কর্মকর্তা ও সদস্যের সম্মিলিত সাফল্য হিসেবে দেখছেন ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “এই অর্জন টেকনাফ মডেল থানার প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি টেকনাফ মডেল থানায় কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে এ অর্জনের জন্য জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দক্ষ নেতৃত্বে টিমের সমন্বিত সাফল্য
একটি থানার সাফল্য কেবল একজন কর্মকর্তার একার প্রচেষ্টায় আসে না। এর পেছনে থাকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি পুলিশ সদস্যের শ্রম, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং সমন্বিত কার্যক্রম।

ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে টেকনাফ মডেল থানার কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বিত তৎপরতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও গতিশীল হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজের অর্জনের কৃতিত্ব থানার সব সদস্যকে দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর নেতৃত্বের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিতে বেড়েছে প্রত্যাশা
টেকনাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হওয়ার স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তবে এ স্বীকৃতির সঙ্গে দায়িত্বও বেড়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সম্মাননা ওসি সাইফুল ইসলাম এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন পুলিশ সদস্যদের আরও উৎসাহিত করবে। মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার রোধ, মানবপাচার বন্ধ, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ মডেল থানা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নিরাপদ টেকনাফ গড়ার প্রত্যাশা
টেকনাফের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহজ কাজ নয়। সীমান্ত অপরাধ, মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার এবং মানবপাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব, গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত অভিযান এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা। এসব ক্ষেত্রে টেকনাফ মডেল থানার চলমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ