৩ দিন ধরে তালাবদ্ধ বাড়ি, পুলিশের ধারণা ডাকাতি
রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত প্রায় তিনদিন বাড়িটির গেটে তালা ঝুলছিল।
পরে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), তাঁদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তীর বাবার নাম হেমন্ত চক্রবর্তী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানার মাছুয়াপাড়া মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি। কয়েকদিন ধরে বাড়ির গেটে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে শনিবার রাতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে।
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ।
মরদেহগুলো আনুমানিক তিন থেকে চার দিন আগের হওয়ায় পচন ধরে গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমির চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, মরদেহগুলো তিন থেকে চার দিন আগের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পচন ধরায় মরদেহগুলো অনেকটা গলে গেছে।
তিনি জানান, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে টাকা-পয়সা ও গহনা রাখার জায়গাগুলোর তালা ভাঙা পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে ডাকাতির সঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে সম্পৃক্ত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সিআইডির ইনচার্জ আরো জানান, বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এ কারণে ঘটনাস্থলে তদন্ত ও আলামত সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগছে। কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত গণপতি চক্রবর্তীর গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চারজনের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কমেন্ট বক্স