০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

১৭ কোটি ৭০ লাখ ব্যয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়াবেটিস হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬
১৭ কোটি ৭০ লাখ ব্যয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়াবেটিস হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি সংগৃহীত ছবি

শাহাবুদ্দিন আহমেদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়াবেটিস হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি। ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পের ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অথচ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি না থাকায় এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটি।   

২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ত্রুটি। ভবনের কয়েকটি স্থানের সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে অনেকটা পরিত্যক্ত স্থাপনায়। জেলার ডায়াবেটিস রোগীদের সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়  সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায়। 

সূত্রে জানা যায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২০ সালের মার্চে কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার পর ২০২৫ সালে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে আরও কিছু ত্রুটি থাকায় শর্তসাপেক্ষে ভবনটি গ্রহণ করেছে সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতি। কিন্তু ভবন বুঝে পেলেও প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। যার কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন পড়ে থাকায় সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। 

 পৌর এলাকার মোহাম্মদ পুরের বাসিন্দা রুবেল ইসলাম জানান আমিও একজন ডায়াবেটিসের রোগ। স্থানীয় হাসপাতালটি চালু হলে সুনামগঞ্জের মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠি ডায়াবেটিস রোগীরা অনেক উপকৃত হবেন। চিকিৎসার জন্য তাদের আর সিলেট বা ঢাকায় ছুটতে হবে না। এত টাকা খরচ করে ভবন বানিয়ে সেটি ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত হাসপাতাল চালু করা উচিত

নতুন পাড়ার আরেক রোগী শংকর রায় জানান হাসপাতাল চালু হলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের ভূমিদাতা পরিবারের সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, সুনামগঞ্জবাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এই হাসপাতালের জন্য ভূমি দান করেছিলেন, দীর্ঘদিনেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় আমরা হতাশ। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এখানে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি। হাসপাতালটি চালু হলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হোক। 

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অবসর প্রাপ্ত সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এখনো আমরা তা বুঝে পাইনি। প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ও ফার্নিচার ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। এগুলো যত দ্রুত আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তত দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ