নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী বাজার এলাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়ার সতর্কতার মধ্যে ত্রিশূলী নদীর আকস্মিক বন্যা-পরবর্তী বর্তমান পরিস্থিতির ড্রোনচিত্র। রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬।
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মোট নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনও ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ সোমবারও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৪ হাজার ২৪৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি, যার মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন।
নেপালের রাসুওয়া ও নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর একটি বেসরকারি সংগঠন।
নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আইপিপিএএনের সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি বলেন, নিখোঁজ ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি বিদেশি দল নেপালি উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দাঙ্গি বলেন, গত বুধবার ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার সময় কিছু শ্রমিক যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন এবং সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। আবার যারা বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের জানিয়েছেন যে তাদের অনেক সহকর্মী এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
তবে দুর্যোগের ষষ্ঠ দিনে এসে তাদের কেউ কেউ অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকা, বসতি ও নদীতীরবর্তী এলাকায় আটকে পড়া মানুষের সন্ধান ও উদ্ধারে আমরা কাজ করছি।’
বিশাল সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা
উদ্ধার তৎপরতার মূল লক্ষ্য এখন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নির্মিত বিশাল সুড়ঙ্গগুলোতে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা।
অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব গ্রাৎসের ভূ-বিজ্ঞানী ইয়াকব স্টাইনার বলেন, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোয় প্রবেশ এবং পানি প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এসব সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হয়। সুড়ঙ্গগুলো এতটাই বড় যে সেখানে ট্রাকও চলাচল করতে পারে।
তিনি বলেন, সেখানে মানুষের নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কিছু মানুষের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তবে তিনি বলেন, এটি আসলে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, কারণ আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও পানি প্রয়োজন।
দাঙ্গির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুওয়া জেলার আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৫৭৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন প্রকল্পটির সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির মধ্যেও কয়েক দিন ধরে উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খুঁজে চলেছেন।