২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রতারিত রোগী, প্রতিকার চাই স্বজনরা

​খোকসায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য

আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬
​খোকসায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য সংগৃহীত ছবি

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : অবৈধ ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা গড়ে ওঠে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে। তেমনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একঝাঁক অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। লাইসেন্সবিহীন ও নবায়নহীন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন এই অবৈধ ব্যবসায়। ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়ছে খোকসার সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাত।

খোকসার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টার। বর্তমানে এসব অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৈধ প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিনগুণ। এ সকল প্রতিষ্ঠান একদিকে যেমন কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নিয়ম-নীতি মানছে না, অন্যদিকে সেবামূলক এই খাতটিকে ঘিরে তারা পেতে বসেছে বাণিজ্যিক প্রতারণার ফাঁদ।

অদ্ভুত বিষয় হলো, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করছে। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো কিছু অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কিছুই। যখনই বড় কোনো দুর্ঘটনা বা রোগীর মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে, তখনই কেবল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিক জানান, একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পেতে হলে:
 * স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন
 * মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র
 * পরিবেশ লাইসেন্স
 * আয়কর সনদ
 * স্থানীয় ট্রেড লাইসেন্স
 * ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার লাইসেন্সসহ একাধিক বৈধ কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়।
তবে এসবের তোয়াক্কা না করেই প্রাথমিক অবস্থায় যেকোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলে বসছে। তদারকির অভাবে অনুমোদিত ও অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী দক্ষ প্যাথলজিস্ট, নিবন্ধিত এমবিবিএস চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা নার্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এই শর্ত পালন করা হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আরিফুল হক-এর স্বাক্ষরিত সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী খোকসার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর হালনাগাদ চিত্র নিম্নরূপ:
১. সম্পূর্ণ লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার:
১. तरुण ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
২. এশা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৩. সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৪. একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৫. নিউ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৬. রাজু ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৭. রানী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৮. আইডিয়াল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
৯. জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার (খোকসা)
২. রেজিস্ট্রেশন থাকলেও নবায়নহীন ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার:
১. সেতু ডায়াগনস্টিক সেন্টার (সর্বশেষ নবায়ন: ২০২১-২০২২)
২. সেনট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার (সর্বশেষ নবায়ন: ২০২৩-২০২৪)
৩. খোকসা হেলথ কেয়ার প্যাথলজি সেন্টার (সর্বশেষ নবায়ন: ২০২৩-২০২৪)
৪. খোকসা ডিজিটাল ডক্টরস চেম্বার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (সর্বশেষ নবায়ন: ২০২৩-২০২৪)
৫. গ্রামীণ কল্যাণ, ভবানীগঞ্জ (সর্বশেষ নবায়ন: ২০২১-২০২২)
৩. প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক (নবায়নহীন):
১. খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল (রেজিস্ট্রেশন নং: ৪৩৬৪/HSM96029) — সর্বশেষ নবায়ন: ২০১৬-২০১৭
২. খোকসা হেলথ কেয়ার ক্লিনিক (রেজিস্ট্রেশন কোড: HSM4460d) — সর্বশেষ নবায়ন: ২০১৬-২০১৭

দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা ভুল রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, অবিলম্বে এসব ভুয়া প্যাথলজিস্ট ও অবৈধ ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে এভাবে জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে না হয়।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ