২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নাফ নদে বিজিবির অভিযান

অভিনব কায়দায় পাচারকালে ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ, আটক ২

আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৬
অভিনব কায়দায় পাচারকালে ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ, আটক ২ ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ

যায়েদুর রহমান, উখিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে নৌকার নিচে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে পাচারকালে প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যমানের ১৪ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা বিওপির সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে বড় এই চালানটি উদ্ধার করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।
আটককৃতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকার গোপাল দাসের ছেলে জয়ঘর দাস (৫০) এবং একই ইউনিয়নের ফুলের ডেল এলাকার মো. শফিকের ছেলে মো. হোসাইন (২০)।

বিজিবি সূত্র জানায়, বড় ধরনের একটি ইয়াবার চালান সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে উখিয়া ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। আধুনিক ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সীমান্ত টহলও বৃদ্ধি করা হয়।

এর আগে প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলার অবরাং সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টাকালে দুই দফায় মোট তিন লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছিল বিজিবি। রাতের বেলা সীমান্ত পাহারায় কড়াকড়ি থাকায় চোরাকারবারীরা কৌশল বদলে দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নাফ নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার দুপুরে হ্নীলা বিওপির সুইচ গেট এলাকা দিয়ে সন্দেহভাজন একটি কাঠের নৌকা প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির বিশেষ টহল দল সেটিকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করে।

প্রাথমিকভাবে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে বিজিবি সদস্যদের সূক্ষ্ম অনুসন্ধানে দেখা যায়, নৌকার তলদেশের সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানির নিচে কয়েকটি বস্তা ভাসছে। পরে পানিতে নিমজ্জিত সেসব বস্তা উদ্ধার করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১৪০টি কার্টন থেকে গণনা শেষে মোট ১৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, “সীমান্তে নানা প্রতিকূলতা ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিজিবি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। মাদক চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। কেবল মাদক নয়, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও সারসহ যেকোনো অবৈধ পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

বিজিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে এবং ২৪৩ জন চোরাকারবারিকে আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় এনেছে।

আটককৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ