মাঠে প্রশাসক রিটন, বদলাচ্ছে রাজশাহীর নাগরিক সেবা
প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি নজরদারি বাড়িয়েছেন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। অফিসের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তাঁর এই তৎপরতা নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছেন প্রশাসক। নাগরিকদের মৌলিক সেবা সহজীকরণ, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, ড্রেনেজ ও সড়ক অবকাঠামোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সেবায় সরাসরি নজরদারি
সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সেবা পেতে নাগরিকদের যেন অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দ্রুত ও সহজভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু নগর ভবনে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে মাঠে যাওয়াকেই কার্যকর প্রশাসনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখছেন তিনি।
রাতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন
নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, বর্জ্য ফেলার স্থান ও সড়কবাতির অবস্থা দেখতে দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। কোথাও ড্রেন বন্ধ, কোথাও বর্জ্য জমে থাকা কিংবা কোনো এলাকায় সড়কবাতি নষ্ট—এ ধরনের সমস্যা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি।
বিশেষ করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মতৎপরতা বাড়ানো, নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ
নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তবমুখী করতে ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন প্রশাসক।
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা—জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ , ড্রেনেজ, সড়কের বেহাল দশা, সড়কবাতির অপ্রতুলতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচলসহ নানা বিষয় মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাজশাহীর প্রত্যাশা
রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে ধরে রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি চলমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসকের মাঠপর্যায়ের এই তৎপরতা যেন সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকে। নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে রাজশাহী আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
‘শাসক নয়, সেবক চাই’
প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিতি ও নাগরিকদের কথা শোনার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নগরবাসী। তাঁদের মতে, একজন প্রশাসকের মূল দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখা এবং নাগরিকদের সমস্যা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।
নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, নাগরিকবান্ধব এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁদের ভাষ্য, নগরবাসী এমন প্রশাসন চান যেখানে নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে দূরত্ব থাকবে না; বরং সেবাই হবে প্রশাসনের প্রধান অঙ্গীকার।
রাজশাহীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের এই সক্রিয় ভূমিকা আগামী দিনে আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধারাবাহিক তদারকি, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে রাজশাহীকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
কমেন্ট বক্স