২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​রাজশাহীর প্রবেশপথে তিন নান্দনিক গেট

আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬
​রাজশাহীর প্রবেশপথে তিন নান্দনিক গেট ​রাজশাহীর প্রবেশপথে তিন নান্দনিক গেট

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী : রাজশাহী মহানগরীতে প্রবেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পথে নির্মাণ করা হবে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং রাজশাহীর স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতে এসব গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গেটের নকশা ও বার্তায় রাজশাহীর আলাদা বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হবে। ফলে নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—তিন দিক থেকে নগরীতে প্রবেশের সময়ই আগত মানুষের সামনে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে হাজির হবে রাজশাহী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাটোরের দিক থেকে রাজশাহীতে প্রবেশের পথে নির্মাণ করা হবে ‘শিক্ষা মহানগরীতে স্বাগতম’ লেখা গেট। নওগাঁর দিক থেকে নগরীতে প্রবেশের মুখে থাকবে ‘শান্তির মহানগরীতে স্বাগতম’ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিক থেকে প্রবেশের পথে নির্মাণ করা হবে ‘সবুজ মহানগরীতে স্বাগতম’ লেখা গেট।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট জানান, মহানগরীর প্রবেশপথগুলোকে আধুনিক, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার পাশাপাশি এসব স্থাপনার মাধ্যমে রাজশাহীর পরিচয় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর প্রবেশপথগুলোকে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন এবং নগরীর পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতেই এ গেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রবেশপথের গেটগুলো শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মাণ করা হবে না। এর মাধ্যমে রাজশাহীর শিক্ষা, শান্তি ও সবুজ নগরীর স্বতন্ত্র পরিচয়ও তুলে ধরা হবে। নগরীতে প্রবেশের সময়ই যেন একজন আগন্তুক রাজশাহী সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা পান, সেই বিষয়টি পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

রাজশাহী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার বিস্তারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি ‘শিক্ষানগরী’ হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উচ্চশিক্ষার জন্য রাজশাহীতে আসেন। এ কারণে নাটোরের দিক থেকে নগরীতে প্রবেশের পথে ‘শিক্ষা মহানগরীতে স্বাগতম’ বার্তাটি রাজশাহীর অন্যতম প্রধান পরিচয়কে তুলে ধরবে।

অন্যদিকে, তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ ও নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে রাজশাহীর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সেই বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে নওগাঁর দিকের প্রবেশপথে ‘শান্তির মহানগরীতে স্বাগতম’ বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইভাবে নগরীর সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষনির্ভর সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকের প্রবেশপথে থাকবে ‘সবুজ মহানগরীতে স্বাগতম’ লেখা গেট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি নগরীর প্রবেশপথ সেই নগরীর পরিচয় তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে একটি শহর সম্পর্কে প্রথম যে দৃশ্য বা ধারণা তৈরি হয়, তাতে প্রবেশপথের ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে রাজশাহীর প্রবেশপথগুলোকে শুধু যানবাহন চলাচলের স্থান হিসেবে না দেখে নগরীর নান্দনিকতা ও পরিচয়ের অংশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, গেটগুলোর নকশায় আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি রাজশাহীর নগর-পরিচয় ও পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। প্রতিটি প্রবেশদ্বার যেন আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং দূর থেকেই মানুষের নজর কাড়ে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, রাজশাহীর উন্নয়ন শুধু সড়ক, ভবন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর সৌন্দর্য, পরিচয় ও নান্দনিক পরিবেশও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে মহানগরীতে প্রবেশের সময়ই নগরীর বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি আগত মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন এসব গেট রাজশাহীর সৌন্দর্যও বাড়াবে।’

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শহরের প্রবেশদ্বার শুধু স্থাপনা নয়; এটি শহরের ভাবমূর্তি ও পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও কাজ করতে পারে। সে দিক থেকে রাজশাহীর তিন প্রবেশপথে তিনটি পৃথক বার্তা সংবলিত গেট নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরীর ব্র্যান্ডিংয়েও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাজশাহীকে শিক্ষা, শান্তি ও সবুজ নগরী হিসেবে তুলে ধরার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর তিন প্রধান প্রবেশপথে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটবে। এতে একদিকে যেমন নগরীর প্রবেশপথের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে রাজশাহীর নিজস্ব পরিচয়ও আরও দৃশ্যমান হবে। নগরীর বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছেও এটি রাজশাহীর একটি নতুন ও নান্দনিক উপস্থাপন হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ