আত্রাইয়ের শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন আসে যায় তবে ঘন্টা বাজেনা
আত্রাইয়ের শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন আসে যায় তবে ঘন্টা বাজেনা
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ): নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এখন শুধুই স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে। স্টেশনের কার্যক্রম প্রায় ১৪ বছর যাবত বন্ধ থাকায় একদিকে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, অপর দিকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রেলের মূল্যবান সম্পদ। এ স্টেশনে দুইটি মেইল ট্রেন উত্তরা এক্সপ্রেস ও রকেট মেইলের স্টপেজ বহাল থাকলেও কখন ট্রেন আসে আর কখন যায় তা অনেকে জানতেই পারে না।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,সেই বৃটিশ শাসনামলে রেল স্থাপিত হওয়ার পর আত্রাই ও রাণীনগরের মাঝে শাহাগোলাতে একটি স্টেশন স্থাপন করা হয়। সে সময় থেকেই এখানে লোকাল ট্রেনগুলোর স্টপেজ কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে মেইল ট্রেনগুলোও এখানে স্টপেজ দেয়া শুরু করে। সেই সাথে ট্রেন ক্রসিংয়ের জন্য এখানে প্রতিস্থাপন করা হয় ডাবল লাইন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়।
এদিকে ট্রেনগুলোর যাত্রা বিরতীতে এলাকার হাজার হাজার জনগণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা পেতে থাকে। সেই সাথে রাজস্ব আয়ও অনেক বাড়তে থাকে। শাহাগোলা ওই অঞ্চলের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় সেখান থেকে প্রতিদিন ট্রেন যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মালামাল পরিবহন করে রেলের আয় হত অনেক। কিন্তু গত প্রায় ১৪ বছর যাবত এ স্টেশন থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় ট্রেন ক্রসিং ব্যবস্থা, প্রত্যাহার করে নেয়া হয় সেখান থেকে জনবল।
ফলে দিনের পর দিন অকেজো হতে থাকে স্টেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা। বতর্মানে স্টেশনটিতে দু'টি ট্রেনের স্টপেজ থাকলেও কখন আসে কখন যায় তা কেউ জানতে পারে না। সরেজমিন দেখা গেছে, প্লাটফরমের ইট উঠে গিয়ে গোটা প্লাটফরম ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। প্লাটফরমের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে যায়। ফলে যাত্রীদের ট্রেনে উঠা নামার জন্য প্লাটফরম ব্যবহারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ ছাড়াও সেখানকার টিকিটঘরের বারান্দার টিন উধাও হয়ে গেছে। মূল ঘরের টিনগুলো একে একে খসে পড়ছে। যাত্রীদের বসার বসার স্থান, শৌচাগারসহ সব স্থাপনাগুলোই প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা আবু জাহিদ ডালিম বলেন, শাহাগোলা এই এলাকার একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এক সময় এখান থেকে ট্রেন যোগে আমরা ধান চাল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেল জেলায় পরিবহন করতাম। তখন এ ষ্টেশন ছিল ষ্টেশন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ।
বর্তমানে রেলের কোন লোক এখানে নেই। এ জন্য মালামালও পরিবহন করা যায় না। আর বেলও রাজস্ব পায় না। সেই সাথে স্টেশনটি সচল না থাকায় রেলের অনেক মূল্যবান মূল্যবান আসবাবপত্রও বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো দেখারও কেউ নেই। এলাকাবাসীর দাবি এ স্টেশনটি পুনরায় সচল করলে স্টেশনটি পুনরায় জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং রেলের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। ফিরে আসবে স্টেশন এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্যতা।
কমেন্ট বক্স