৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা, নেই সমন্বিত পরিকল্পনা

ব্রহ্মপুত্র, জমিদারবাড়ি ও ঐতিহ্যকে ঘিরে পর্যটন অবকাঠামো গড়ার তাগিদ

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬
ব্রহ্মপুত্র, জমিদারবাড়ি ও ঐতিহ্যকে ঘিরে পর্যটন অবকাঠামো গড়ার তাগিদ সংগৃহীত ছবি

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ : ব্রহ্মপুত্রের তীর, ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ ময়মনসিংহে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগেনি। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বাইরে জেলার পর্যটন সম্পদকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার উদ্যোগও সীমিত। ফলে শহরকেন্দ্রিকতার বাইরে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পর্যটন বিস্তারের পাশাপাশি নদী, ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ঘিরে সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 'ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার ময়মনসিংহে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন উড়িয়ে র‌্যালির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।এতে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। 

ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ব্রহ্মপুত্র ময়মনসিংহের পর্যটনের অন্যতম বড় সম্পদ। নদীর তীর, জয়নুল আবেদিন পার্ক ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালাকে ঘিরে সমন্বিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।পাশাপাশি হালুয়াঘাটের গাবরাখালী, মুক্তাগাছা ও গৌরীপুরের জমিদারবাড়িসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, পর্যটনকে শুধু নগরকেন্দ্রিক না রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে। ভালুকাকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা গেলে শিল্প ও পর্যটন উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, শুধু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়; স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমন্বয় করে পর্যটন উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহে নদীভিত্তিক পর্যটনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের চরগুলোকে পিকনিক, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে স্থানীয় ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠলে বেসরকারি খাতও অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে ময়মনসিংহের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধান। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ