আগামীকাল আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬
প্রবীণদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা প্রয়োজন
সংগৃহীত ছবি
মোঃ মজিবুর জুয়েল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : প্রবীণদের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রনের মাধ্যমে তাদের কর্ম চঞ্চল রাখা প্রয়োজন।
প্রবীণরা একটি সমাজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ধারক। দীর্ঘ কর্মজীবনে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেক প্রবীণ শারীরিক অসুস্থতা, আর্থিক সংকট, একাকীত্ব, অবহেলা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজে তাদের মতামত ও প্রয়োজনকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় না। অথচ এই মানুষটি একসময় তার মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও পরিবারের সকল প্রয়োজন মিটাতে নিজের জীবনের সুখ শান্তি বিসর্জন দিতে দ্বিধাবোধ করেনি। অনেকক্ষেত্রে তারা দুঃখ, কষ্ট ও জীবনের প্রতি অভিমান নিয়ে শেষ দিনটি পর্যন্ত অতিবাহিত করে।
প্রবীণদের শুধু সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, পুষ্টি ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিবারে তাদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সমাজ উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রবীণদের প্রতি সহিংসতা, অবহেলা ও বৈষম্য প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন/ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রবীনদের সাথে বৈঠক, মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি, তাদের অবস্থা, আবস্থান সম্পর্কে জানা এবং তাদের পরিবারের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানষিক স্বাস্থ্য ও বাকী জীবন যেন সন্মানজনক ভাবে বাচতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা । প্রবীণদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন ।
সমাজে প্রবীণদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সক্রিয় জীবন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রতিটি মানুষের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা উচিৎ । প্রবীণদের সম্মান ও যত্ন শুধু একটি দিবসের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর কার্যকরভাবে অব্যাহত রাখা হলে তারা তাদের বাকী জীবনটুকু সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।
গোয়ালন্দ সরকারী কামরুল ইসলাম কলেজের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম লিন্টু (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, আগামীকাল আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারী চাকরিতে কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে আমি অবসরে আছি। আমরা যারা অবসরে আছি তারা অনেক ক্ষেত্রে কর্মহীন থাকি। কর্মহীন থাকায় আমরা মানষিকভাবে ট্রমাটাইজ থাকি। তাছারা অনেক ক্ষেত্রে আমরা শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকি। এ সময় আমাদের মানসিক সাপোর্ট দরকার। প্রবীনদের প্রতি পরিবার, সমাজের একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর ব্যবস্থাপক জুলফিকার আলী বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবার এক দ্বার খুলে রেখেছে। এখানকার স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন। বয়স্ক যে কর্মীরা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চাকুরী করে তাদের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হলেও তাদের চাকুরীতে বহাল রাখা হয়। বয়স্ক প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন কাজ দিয়ে সাবলম্বি করে রেখেছেন ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর অন্যান্য উপকেন্দ্রর মতো গোয়ালন্দেও বয়স্ক ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কমেন্ট বক্স