প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা মানতি’র অভিযোগ এলাকাবাসীর
মিরকাদীম পৌরসভার টেংগরে মোঃ জয়ের মাদকের স্পট
সংগৃহীত ছবি
তানিয়া আক্তার, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের মিরকাদীম পৌরসভার টেংগর এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. জয় নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তার নিয়ন্ত্রণে একাধিক মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে এবং এসব স্পট থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করছেন তার লোকজন এমটাই অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, টেংগর গ্রামের মৃত মো. জালালউদ্দিনের ছেলে মো. জয়কে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, কথিত মাদক স্পটগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহলে নিয়মিত মানতি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ খাতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়ে থাকে।
নয়দিঘীর পাথর এলাকার বাসিন্দা মৃত মন্টু মিয়ার ছেলে মো. শফিজুল অভিযোগ করে বলেন, জয়ের একাধিক মাদকের স্পট আছে। তার দাবি, এসব স্পটে নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে। কিছু দিন আগে ডিবি পুলিশ মাদকের অভিযান চালাতে আসলে ডিবি পুলিশের উপর হামলা করে জয়ের লোকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের এই বিস্তার শুধু টেংগরেই সীমাবদ্ধ নয় মিরকাদীম পৌর এলাকার বিভিন্ন অংশেও এর প্রভাব পড়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদক বিক্রির কারণে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
একই সঙ্গে মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, জয়ের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অতীতে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। বর্তমানে তার মা-ও কথিত কারবারে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মাঝেমধ্যে অভিযান হয়, কয়েকজনকে আটকও করা হয়। কিন্তু যারা মূলত মাদকের সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে—এমন ধারণা এলাকায় তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি মাদকের মূল সরবরাহকারী, নিয়ন্ত্রক ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান থাকা সত্ত্বেও যদি একই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের স্পট পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে এর নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কীভাবে এসব স্পট পরিচালিত হচ্ছে—তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।
এলাকাবাসী টেংগরসহ মিরকাদীম পৌর এলাকার কথিত মাদক স্পটগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদকের মূল সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. জয়ের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
কমেন্ট বক্স