০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

শিকড়ের টানে অটল মেসি: দেশপ্রেমের বিরল নজির গড়ে বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬
শিকড়ের টানে অটল মেসি: দেশপ্রেমের বিরল নজির গড়ে বিদায় ছবিঃ সংগৃহীত

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে লিওনেল মেসির সতীর্থদের চোখের জল আর চাপা কষ্টে গোটা মাঠ হয়ে উঠেছিল যেন এক শোকভূমি। তার বিপরীতে স্টেডিয়ামের গর্জন, জয়ী দলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং হেরে যাওয়া দলের সমর্থকদের গর্ব ও কৃতজ্ঞতার সুর একসঙ্গে মিশে জন্ম দিয়েছিল এক অদ্ভুত পরিবেশের। অথচ এত কিছুর মাঝেও মেসির চোখ আটকে ছিল গ্যালারির ঠিক সেই অংশে, যেখানে তাঁর প্রিয় স্বদেশবাসীরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় জড়ো হয়েছিলেন।

কারও কারও দাবি ছিল, ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আসলে ঘটনা তেমন ছিল না। আলবিসেলেস্তেদের এই বরপুত্রের ইচ্ছা ছিল ওই মুহূর্তের প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি শব্দ ও অনুভূতি হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর কোণে গেঁথে রাখা। তাঁর জানা ছিল, আগামী দিনে যখনই এই দিনটি মনে পড়বে, তখন এসব স্মৃতিই হয়ে উঠবে তার মূল উপজীব্য। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের তীব্র কষ্ট তাঁকে গ্রাস করেছিল সত্য, তবে অঝোর কান্নার আসল কারণ ছিল ভিন্ন। ভেতরে ভেতরে তিনি টের পাচ্ছিলেন, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে এটিই সম্ভবত তাঁর শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

মেসি প্রকৃতপক্ষে এমন এক প্রবাসী, যিনি নিজের ও পরিবারের খানিকটা ভালো ভবিষ্যৎ এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে শৈশবেই জন্মভূমি ছেড়ে গিয়েছিলেন—যেভাবে প্রতিদিন পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ মাতৃভূমি ছেড়ে নতুন ঠিকানার উদ্দেশে পাড়ি দেয়। বেশির ভাগ সাধারণ প্রবাসীর মতোই দেশপ্রীতি ও স্বদেশের জন্য খাঁটি ভালোবাসা তিনি কোনো দিন ভুলে যাননি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার পরিবর্তে স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর জন্য খুবই সহজ ছিল, আর স্পেনের জার্সিতে খেললে খুব সম্ভবত আরও তিন-চারটি বিশ্বকাপ শিরোপা উঠত তাঁর ঝুলিতে।

তবে নিজের শিকড়কে তিনি কখনো অস্বীকার করেননি। অসামান্য ফুটবল প্রতিভাকে ছাপিয়ে ভিনদেশের মাটিতে বিনয় ও আত্মমর্যাদা অটুট রাখার ক্ষমতাই তাঁকে লাতিন আমেরিকার এক অনন্য বৈশ্বিক প্রতীক করে তুলেছে। ফুটবলের সর্বকালের সেরা এই মহাতারকার জীবনের প্রথম ১৩ বছর কেটেছে রোজারিও শহরে। তাঁর জন্ম ও বড় হয়ে ওঠার কাহিনি আজ কারও অজানা নয়। গ্রোথ হরমোনের জটিল সমস্যায় ভোগার কারণে তাঁর জন্য দরকার হয়েছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা, যার খরচ জোগানোর সামর্থ্য পরিবারের ছিল না; স্থানীয় ক্লাবও সেই ব্যয় বহন করতে রাজি হয়নি। সংকটের ঠিক সেই সময়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব, চিকিৎসার সব খরচের দায়িত্বও নেয় তারা। তখন আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে রকম ছিল এবং পুরো অঞ্চলের মতো আজও যে জটিল অবস্থায় রয়ে গেছে, তাতে নতুন দিগন্তের সন্ধানে বিমানবন্দরই খোলা থাকত একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে।

কাতালান ক্লাবটির যুব দলে নাম লেখানোর পর খুব অল্প সময়েই তিনি নিজের ভিন্ন জাতের পরিচয় দেন। এর ফলে সে সময় ‘লা পুলগা’ বা ‘দ্য ফ্লি’ ডাকনামে পরিচিত এই কিশোরকে স্প্যানিশ জাতীয় দলে খেলাতে জোর তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু স্বদেশের প্রতি মেসি ও তাঁর পরিবারের আত্মিক টান ছিল ভীষণ মজবুত। একেবারে অল্প বয়সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামাই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। পরিস্থিতি আঁচ করে দ্রুত উদ্যোগী হয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন; মেসিকে চিরদিনের জন্য নিজেদের দেশের করে নিতে তারা অনূর্ধ্ব-২০ দলের একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে। এভাবেই মেসির ১৭ বছরে পা রাখার মাত্র কয়েক দিন পর, ২০০৪ সালের ২৯ জুন, সূচনা হয় তাঁর রূপকথার মতো আন্তর্জাতিক যাত্রার।

জ্যেষ্ঠ জাতীয় দলে তাঁকে দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। ঐতিহাসিক সেই ক্ষণ আসে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। তবে অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, দ্বিতীয়ার্ধের ১৯ মিনিটের মাথায় বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি অন্যায্য লাল কার্ড দেখে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর মহাকাব্যিক অর্জনের পথ যে একেবারেই মসৃণ বা সহজ হবে না, এই শুরুটা ছিল যেন তারই আগাম ইঙ্গিত।

আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির কিংবদন্তিতুল্য পথচলা বোঝার জন্য একটু পেছনে তাকানো দরকার। কোনো বিখ্যাত চলচ্চিত্রের গল্পের মতোই তাঁর গোটা যাত্রা ছিল প্রকৃত এক ‘হিরোস জার্নি’—একদম কাদা থেকে উঠে এসে মহাশূন্য জয় করার কাহিনি। একের পর এক হতাশা ও ব্যর্থতার অন্ধকারে আর্জেন্টিনার ফুটবল যখন নিমজ্জিত, ঠিক সেই সময়েই জাতীয় দলে তাঁর আবির্ভাব। জাতীয় গৌরব ফিরিয়ে আনতে দেশটি তখন অবিরাম একজন ‘নতুন ম্যারাডোনা’র খোঁজ করছিল। তার ওপর মেসি খেলতেন বাঁ পায়ে, পরতেন ১০ নম্বর জার্সি এবং নিজের জাদুতে সবাইকে চমকে দিতেন। তাই ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা ছিল যতটা অনিবার্য, ঠিক ততটাই অন্যায্য, আর তা তাঁর তরুণ কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছিল পর্বতসম চাপ।

বার্সেলোনার জার্সিতে তিনি যখন একে একে সব শিরোপা ঘরে তুলছিলেন, সে সময়েই সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি কোনোভাবেই ধরা দিচ্ছিল না। নিজের দেশের ভেতর থেকেই তাঁর দিকে ছুটে আসছিল অন্ধ সমালোচনা। জার্সির প্রতি আনুগত্য, মাঠে দৃষ্টিভঙ্গিসহ তাঁর প্রতিটি বিষয় নিয়েই প্রশ্ন উঠত। ম্যাচের শুরুতে ‘তিনি জাতীয় সংগীত গান না’—এমন তুচ্ছ কথাও অবলীলায় ছড়ানো হতো। অন্যায্য এসব সমালোচনার তির ছোড়া হচ্ছিল সেই বিচক্ষণ মেসির দিকে, যিনি চাইলেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নিজের জন্য অনেক সহজ একটি পথ বেছে নিতে পারতেন। তবু অসীম ধৈর্য, আত্মসংযম ও মর্যাদা নিয়ে সব অপমান সহ্য করে তিনি স্থাপন করেছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তারপর আসে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দেশের মাটিতে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। মনে হয়েছিল সবকিছু নিখুঁতভাবেই সাজানো, এক নিখাদ রূপকথাই রচিত হতে চলেছে; কিন্তু জার্মানির পরিকল্পনা ছিল একেবারে আলাদা। এরপর চিলির বিপক্ষে টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে পড়তে হয় আরও দুটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির মুখে। সেই কষ্টে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি এখন চারটি ফাইনাল হেরেছি... জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। চারটি ফাইনাল। এটা আমার জন্য নয়। দুর্ভাগ্যবশত আমি চেষ্টা করেছিলাম। এটা ছিল আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া। কিন্তু তা হলো না, তাই আমি মনে করি এটাই শেষ।’ তবে একজন প্রকৃত বিজয়ীর মতো তিনি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবার জাতীয় দলের তাঁবুতে ফেরেন।

তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সেটিই ছিল সবচেয়ে কঠিন ও অন্ধকার অধ্যায়। টানা ফাইনাল হারের পর দলটি ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে কোনো রকমে জায়গা পায়, আর টুর্নামেন্টেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল চরম হতাশাজনক। ২০১৯ সালে ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যটি দেন। দৃঢ় কণ্ঠে জানান, কোনো অবস্থাতেই তিনি হার মানবেন না: ‘আমি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে অন্তত একটি ট্রফি জিতে আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। আর তা যদি নাও হয়, অন্তত যেন আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করার তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিতে পারি। আমার অনুসারী শিশুদের উদ্দেশে এটিই আমার বার্তা। কেবল ফুটবলের জন্য নয়, এটি জীবনের জন্য। কারণ জীবন মানেই তো হোঁচট খাওয়া, আবার উঠে দাঁড়ানো এবং পুনরায় চেষ্টা করা। নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’

শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষা ফুরায় ২০২১ সালে; ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জিতে পূরণ হয় তাঁর অধরা স্বপ্ন। ওই মুহূর্ত থেকেই মাথার ওপরের সব ভারী চাপ নেমে যায় এবং ভেতরের সহজাত প্রতিভা বাধাহীনভাবে বিকশিত হতে থাকে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফুটবলের সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত পুরস্কারটি জিতে নেন মেসি। সেই জয়ের পথ এতই কঠিন ও দুর্গম ছিল যে তাতে জয়ের আনন্দ বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণ। তাঁর ফুটবল-মেধার সঙ্গে সঙ্গে অসাধারণ বিনয় এবং স্বদেশের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসাকেও অভিবাদন জানিয়েছিলেন ভক্তরা।

৩৮ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নেমে তিনি আরও একবার দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি অনন্য। ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনায় এত দিন যে কয়েকটি আক্ষেপ রয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর অন্যতম—ইংল্যান্ডকে হারানোর অধ্যায়টি—এবার দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্সে তিনি পূর্ণ করে নেন। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শরীর তাঁকে সুপারসনিক স্তরে খেলতে দেয়নি এবং নিখুঁত সমাপ্তিও হয়ে ওঠেনি; তা সত্ত্বেও এই টুর্নামেন্টের পর সারা বিশ্বে সর্বসম্মত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার লিওনেল মেসিই।

মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে অধিনায়কের বিদায় অবশ্য হঠাৎ কোনো চমক ছিল না। বাবার মৃত্যু মেসির মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। আবেগে ভরা বিদায়ী বিবৃতিতে তাঁর ভাষ্য, ‘আমি জানি না তোমায় ছাড়া কীভাবে চলব, কীভাবে এগিয়ে যাব বুঝতে পারছি না। আমি কেবল ফুটবলটাই খেলেছি এবং এখন আমার নিজের মনেই মারাত্মক সংশয় জাগছে যে আমি আর কতদিন এটা চালিয়ে যেতে পারব।’

এ ছাড়া মেসির বয়স এখন ৩৯ বছর, সময়ের স্বাভাবিক ছাপও তাঁর শরীরে পড়তে শুরু করেছে। তাই এই বিদায় যত স্পষ্ট ও প্রত্যাশিতই হোক না কেন, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তার কষ্ট একটুও কম নয়।

জীবনে এমন কিছু অভিজ্ঞতা আসে, যা সম্পূর্ণ অনন্য এবং যা আর ফিরে আসে না। মাইকেল জর্ডান, রজার ফেদেরার অথবা সর্বকালের অন্য সেরাদের সরাসরি দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য যে কতখানি অর্থবহ, তা ক্রীড়াপ্রেমীদের জানা। এ যেন অসীম আকাশের বুক চিরে ভিন্ন রকম উজ্জ্বল রঙের একটি ধূমকেতুর ভেসে যাওয়া দেখা—যা অন্য যে কারও তুলনায় বেশি দেদীপ্যমান এবং জীবনে দ্বিতীয়বার যার দেখা মেলে না।

মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে তাঁর অনন্য ফুটবল প্রতিভা এখনো উপভোগের সুযোগ আছে, যদিও পেশাদার ফুটবলার হিসেবে তাঁর সময় যে ফুরিয়ে আসছে, সে ইঙ্গিত তিনি বারবার দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে কেবল আর্জেন্টাইনদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যই শেষ হলো এক অবিশ্বাস্য সোনালি যুগ।

নিজের শেষ বিদায়ী বার্তায় মেসি লিখেছিলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, কারণ তিনি তাঁকে আর্জেন্টাইন হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ কোথায় বাস করছে, তার ওপর স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা কখনো নির্ভর করে না; নির্ভর করে তার শিকড় কোথায় এবং সে কোথা থেকে এসেছে, তার ওপর। আর অন্তরে-আত্মায় লিওনেল মেসি চিরদিনই একজন গর্বিত আর্জেন্টাইন।

সূত্র: সিএনএন



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ