০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই-আগস্টে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮২ কোটি ডলারে, এক বছরে বেড়েছে ২৯ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬
জুলাই-আগস্টে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮২ কোটি ডলারে, এক বছরে বেড়েছে ২৯ শতাংশ ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের শুরুর দুই মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮২ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এ ঘাটতি ২৯ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার; এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাণিজ্য ঘাটতি বড় হলেও এ সময়ে দেশের চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে, যা এক বছর আগের ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। চলতি হিসাবের এই উন্নতির পেছনে মূল কারণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে উঠেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগস্ট শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, যা প্রায় ৫ দশমিক ২ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

জ্বালানি তেল আমদানির খরচে বড় উল্লম্ফন এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি ব্যয়—আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে এ দুটিই বড় ভূমিকা রেখেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ ছিল ১২৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতের আমদানি ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, জ্বালানি তেল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়াই সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ।

তাঁর ভাষায়, ‘পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় ১১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আমদানি ব্যয় ১২ শতাংশ বাড়ার পেছনে এটাই মূল কারণ। তা ছাড়া ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির জন্য আমদানি ব্যয় বাড়েনি। ব্যালান্স অব পেমেন্টে কিছুটা চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে।’

অন্যদিকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক থেকে এ সময়ে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৭৪৯ কোটি ডলারে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বাড়লেও আর্থিক হিসাবে অর্থের বহিঃপ্রবাহ বেড়েছে; ফলে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমেনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আমদানি রপ্তানির চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে, আর সে কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। আবার প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকায় চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তও বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘তবে আর্থিক হিসাবে অর্থের বহিঃপ্রবাহ আরও বেড়েছে। ফলে এ হিসাবের ঘাটতিও বেড়েছে।’

জাহিদ হোসেন বলেন, আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ঘাটতিও বড় হয়েছে। এ জন্য তিনি মূলত দায়ী করেন মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় ৬১ শতাংশ কমে যাওয়া এবং ট্রেড ক্রেডিটের ঋণাত্মক অবস্থানকে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় নেমে এসেছে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এ সময়ে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি অর্থের ব্যবহারও এ সময়ে কমেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়াই এর প্রধান কারণ কি না, তা বিদ্যমান তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পের কাজ, অনুমোদন, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় দেরি হলে যেমন প্রকল্পে বিদেশি অর্থের ব্যবহার কমতে পারে, তেমনি কিছু ঋণের সঙ্গে যুক্ত শর্ত পূরণ না হলেও তা কমতে পারে।

ফাহমিদা খাতুনের মতে, প্রতিটি উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে বসে বিলম্বিত প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা, সুনির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা এবং সেগুলো দ্রুত সমাধান করা সরকারের উচিত। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থছাড়ের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করাও প্রয়োজন।

তিনি রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে বৈধ পথে আরও বেশি প্রবাসী আয় আনার উদ্যোগ জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন ফাহমিদা খাতুন।

সৌজন্যে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ