ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জব্দ করা এই হেরোইনের বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ লাখ টাকা।
গ্রেফতার হওয়া ওই নারী মাসুমা খাতুন। ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বুধবার সকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসে এক নারী হেরোইন নিয়ে আসছেন—গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য পান তাঁরা। এরপর ডিএনসির একটি দল সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।
আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। তখন বাসের মাঝের আসনে বসে থাকা মাসুমা খাতুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডিএনসি জানতে পারে, তাঁর কাছে হেরোইন রয়েছে। পরে দলের নারী সদস্যদের সহায়তায় তাঁর পরনের পোশাকের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো একটি পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, পলিব্যাগটিতে ছিল ১০০ গ্রাম হেরোইন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমা খাতুনের দাবি, হেরোইনের চালানটি তিনি যশোর থেকে ঢাকায় আনছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক পরিবহনের জন্য মেয়ে তাহমিনা তাঁকে চাপ দেন এবং মেয়ের নির্দেশেই হেরোইন নিয়ে তিনি ঢাকায় আসছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানিয়েছেন, এর আগেও একইভাবে আরও দুবার হেরোইন বহন করেছেন।
ডিএনসি বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে যাত্রাবাড়ী এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে তাহমিনার সম্পৃক্ত থাকার তথ্য মিলেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত হচ্ছে এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তাহমিনার অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনার জন্য ডিএনসির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান রয়েছে।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, বয়স্ক নারী বা পরিবারের সদস্যদের মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন কৌশল কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের পরিকল্পিত পদ্ধতি কি না, মাদকের উৎস ও গন্তব্য কোথায় এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ডিএনসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাসুমা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মামলার তদন্তের পাশাপাশি জব্দ করা আলামত, মুঠোফোনের তথ্য, গ্রেফতার নারীর বক্তব্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট কারবারি ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।