সংগৃহীত ছবি
যায়েদুর রহমান, উখিয়া (কক্সবাজার) : আসন্ন দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটননগরী কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শহরের হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিংয়ের বেশ ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
ছুটি উপলক্ষে যাত্রীচাপ সামলাতে আগামী ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ এই সেবা পর্যটকদের ভ্রমণকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে, তেমনি ছুটির সময়ে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিশেষ গতি সঞ্চার করবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি থাকবে। দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এ সময় কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসুর সমাগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি
বিশেষ সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর বেলা ২:৩০ মিনিটে ‘ঢাকা স্পেশাল’ ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে। একই দিন রাত ১০:৩০ মিনিটে ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পরদিন সকাল ৬:৫০ মিনিটে পৌঁছাবে।
২৩ অক্টোবর সকাল ১১:৩০ মিনিটে একটি বিশেষ ট্রেন কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত ৮:০০টায় পৌঁছাবে। ওই দিন রাত ১০:৩০ মিনিটে ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ ট্রেনটি পুনরায় ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬:৫০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাবে।
এরপর ২৪ অক্টোবর সকাল ১১:৩০ মিনিটে ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ ট্রেন কক্সবাজার থেকে ছেড়ে রাত ৮:০০টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন রাত ১০:৩০ মিনিটে ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে পরদিন ভোর ৪:০০টায় গন্তব্যে পৌঁছাবে।
কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ এই ট্রেন চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টানা ছুটিতে কক্সবাজারমুখী ট্রেনের যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকে। সে কারণেই এই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে "কক্সবাজার এক্সপ্রেস" ও ‘ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস’ নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলছে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’। বিশেষ সার্ভিস চালু হওয়ায় ছুটির সময়ে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি পর্যটকদের জন্য যাতায়াতের সুযোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
চাঙ্গা হবে স্থানীয় অর্থনীতি
কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসার সাথে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ডজনখানেক খাত ও মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটক বাড়লে এসব খাতে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, টানা ছুটিতে এবার আমরা পর্যটকদের রেকর্ড সমাগমের আশা করছি। ইতোমধ্যে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে বুকিংয়ের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের প্রথম পছন্দ ট্রেন। ছুটির সময়ে বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়ায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সহজ রেলযোগাযোগের কারণে পর্যটকরা আরও বেশি কক্সবাজার ভ্রমণে উৎসাহিত হবেন। তারা স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টে অবস্থান করবেন, রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করবেন এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।
তবে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত স্থানীয় পরিবহন চাপ সামলানো, হোটেল-রিসোর্টের সেবার মান বজায় রাখা এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, যানজট নিরসন এবং ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে বিশেষ এই ট্রেন সার্ভিস যাত্রীদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটকদের অবকাশকে আনন্দদায়ক করার পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতি সর্বোচ্চ লাভবান হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।