১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আর্থিক অনিয়মের বিতর্কের মধ্যেই লিভারপুলকে উড়িয়ে দিল সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬
আর্থিক অনিয়মের বিতর্কের মধ্যেই লিভারপুলকে উড়িয়ে দিল সিটি ছবিঃ সংগৃহীত

প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের শতাধিক অভিযোগের মুখে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনো প্রভাব পড়তে দিল না। ১০ জনের লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ড, জেরেমি ডকু ও রায়ান শেরকির গোলে জয় নিশ্চিত করে সিটি। এই জয়ে লিগের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধানও ফিরে পেয়েছে দলটি। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় লিভারপুলের রায়ান গ্রাভেনবের্খ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর। এরপর একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে সিটি। কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে দলের জয়ের ধারাও অব্যাহত থাকে।

তবে মাঠের সাফল্যের বাইরেও সিটিকে ঘিরে রয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি। কমিশনের অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সিটি ও তাদের আমিরাতি মালিকেরা ভুয়া চুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে এবং ব্যয় কমিয়ে দেখিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট অনিয়মের আর্থিক পরিমাণ ৯০ কোটি পাউন্ডের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। আপিলে সিটি হেরে গেলে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। পুরোনো শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

বিতর্কের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে অ্যানফিল্ডে যাওয়ার সময় পুলিশের নিরাপত্তা পেয়েছিল সিটির দল। স্বাগতিক সমর্থকদের কাছ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকলেও এবার ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগের মতো সহিংসতা দেখা যায়নি। তবে লিভারপুল সমর্থকেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিটির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ক্লাবটির আর্থিক বিতর্ক নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পতাকা ও স্কার্ফও বিক্রি হয়। অ্যানফিল্ডের বিখ্যাত কপ স্ট্যান্ডে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘একটি পুরো প্রজন্মের সমর্থকদের ঠকানো হয়েছে।’

একসময় পেপ গার্দিওলার সিটি ও ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের লড়াই প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। এবারও ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ ছিল ব্যাপক। তবে মাঠে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি লিভারপুল। নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে এটিই ছিল দলটির প্রথম হার। চোটের কারণে দোমিনিক শবোস্লাই, আলেক্সান্ডার ইসাক ও কোডি গাকপোকে না পাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় দলটিকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করে লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার শুরুর একাদশে নামা লুইস কউমাসের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। এরপর বেঞ্চ থেকে জেরেমি ডকুকে নামান মারেস্কা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডকুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন গ্রাভেনবের্খ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া লিভারপুল এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

খেলার শেষ ২৫ মিনিট বাকি থাকতে ডকুর শট থেকে আসা বলের দিক পরিবর্তন হলে সুযোগ কাজে লাগান হালান্ড। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন তিনি। তিন মিনিট পর দুর্দান্ত শটে নিজেই গোল করেন ডকু। ম্যাচের শেষ দিকে ইয়োশকো গভার্দিওলের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল পেয়ে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন শেরকি। তাতে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ