১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনায় ইলিশ নিধন চলছে, সক্রিয় ৮-১০ সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬
মেঘনায় ইলিশ নিধন চলছে, সক্রিয় ৮-১০ সিন্ডিকেট ছবিঃ সংগৃহীত

প্রশাসনের অভিযান ও ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার। নদীর তীরবর্তী অন্তত ৩০টি বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সময়ে ধরা ইলিশ। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে মাছ পাওয়ায় এসব বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনাও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ শিকার ও বিক্রির পেছনে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। তাদের প্রভাবের কারণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক কম। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে বেশি দামে বিক্রির আশায় বড় মাছের একটি অংশ মজুত করা হচ্ছে বলেও তাঁদের ধারণা।

হিজলার দড়ির চর-খাজুরিয়া বাজার, ধুলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ, মেমানিয়া ইউনিয়নের একতা, বড়জালিয়া ও হরিনাথপুর বাজারে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র মেহেন্দীগঞ্জের কালীগঞ্জ, দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের বুড়ির পুল ও হাজিরহাট, আলিমাবাদ ইউনিয়নের আলীগঞ্জ, চর গোপালপুর, জাঙ্গালিয়া এবং ভাসানচর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারেও।

হিজলার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, মেঘনা নদীর পাড়ে জেলেদের নৌকা থেকে প্রকাশ্যেই ইলিশ বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি। তাঁর দেখা বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকায়। এর চেয়ে ছোট ইলিশের দাম ছিল কেজি ৫০০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এসব মাছের দাম প্রায় অর্ধেক। স্থানীয় বাজার থেকে মাছ কিনে খুচরা বিক্রেতারা দূরের বাজারে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা লাভে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ইলিশ শিকার ও কেনাবেচার সঙ্গে কিছু স্থানীয় সিন্ডিকেট জড়িত। বিস্তীর্ণ নদী এলাকায় সীমিত জনবল নিয়ে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করাও কঠিন। সরকারি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেখলেই জেলেরা ছোট খালে ঢুকে পড়েন, ফলে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে যায়।

হিজলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইলিয়াস শিকদার অবৈধ মাছ শিকার ও সিন্ডিকেটের তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বাজারগুলোতে খুব ভোরে ফজরের আজানের সময় এবং রাতে মাছ বিক্রি হয় বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। রাতের অন্ধকারে উত্তাল নদীতে অভিযান চালানো কঠিন। এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতেও অনেক সময় লাগে। এরপরও অভিযান চলছে। উদ্ধার করা কিছু ইলিশ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ